প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর অবশেষে স্থায়ী ক্যাম্পাস পেতে যাচ্ছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)। ২০১৯ সালে মাত্র ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচটি অনুষদে বিদেশিসহ প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। নতুন উপাচার্য যোগদানের পর ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুকৃবির বর্তমান অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইন পাস হওয়ার পর ২০১৮ সালে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রছাত্রী হোস্টেল, লাইব্রেরি ও দুটি ক্যাম্পাসসহ সবকিছুই চলছে অস্থায়ীভাবে ভাড়া করা ভবনে। এ কারণে প্রতি মাসে সরকারকে ভাড়াবাবদ বিপুল অঙ্কের টাকা গুণতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়ে স্থবিরতা কাটতে শুরু করে। বর্তমানে প্রকল্পের মূল্যায়নের কাজ চলছে। নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ফাইলটি এখন ইউজিসি, শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে একনেকে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ২৫০ একর জমির একটি খসড়া করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে দেয়ানা মোল্লাপাড়ার একাংশ, খুদের খাল, দেয়ানা দক্ষিণপাড়ার একাংশ, দেয়ানা ও রায়েমহলের মাঝামাঝি অংশ এবং আড়ংঘাটা থানা এলাকার পাহাড়পুর এলাকা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে এবং উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।