আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট যেন নিছক কাগুজে দলিল না হয়, বরং তা যেন হয় তারুণ্যবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী। সরকারের কাছে এমন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তারুণ্যের ভাবনা : ইসলামী মূল্যবোধ ও উন্নয়ন কৌশল’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির এক কঠিন রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমে আসা এবং যুব বেকারত্বের হার ১১.৫ শতাংশে পৌঁছানো দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়ন ও জাকাত-ওয়াকফভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার করতে হবে।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের রাষ্ট্রীয় ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা করে ঋণের বোঝা বাড়ছে। ব্যাংক খাতে সাড়ে ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকাই খেলাপি। একই সঙ্গে অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা, অবকাঠামো খাতে দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ বলেন, দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই কমে আসবে। তাই এখনই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ প্রমুখ।