জনবান্ধব পুলিশ গঠনের প্রত্যয়ে শেষ হলো পুলিশ সপ্তাহ

আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে সফলভাবে গতকাল বুধবার শেষ হলো পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। বর্ণাঢ্য আয়োজন ও জনসেবামুখী বহুমাত্রিক কর্মসূচির মধ্যদিয়ে চারদিনব্যাপী আয়োজন শেষ হয়।

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলন। আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। পুলিশের আধুনিকায়ন, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনমুখী পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর মতামত ব্যক্ত করেন সবাই।  এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় এবারের পুলিশ সপ্তাহের নানা আনুষ্ঠানিকতা।

জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মঅধিবেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং জনসেবার মানোন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে জনগণের আস্থা ও সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে পুলিশ-জনতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করে পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠিকতা উদ্বোধন করেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। তা ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীরা পুলিশকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তা ছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির একাধিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, সেবার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রতিটি কর্মঅধিবেশন ছিল প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অধিবেশনসমূহকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করে তোলে। উৎসবমুখর ও কর্মচঞ্চল পরিবেশে পুলিশের পেশাদারত্ব, মানবিকতা ও জনসেবার অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সবার প্রত্যাশা।