সড়কের দুর্ভোগ ট্রেনের ঘাড়ে

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি রেলক্রসিং এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই রেলক্রসিংয়ে কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের বেহাল দশায় কয়েক দিন পরপর যানবাহন ফেঁসে যায়। এতে বন্ধ হয়ে যায় রাজধানীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ। গত মঙ্গলবার রাত ও গতকাল বুধবার সকালেও পৃথক সময়ে সেখানে দুটি ট্রাক ফেঁসে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেন ও সড়কপথের যাত্রীরা। এতে ঘটছে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ও।

এলাকাবাসী, যাত্রী, রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেললাইনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢাকা-রাজশাহী রেললাইন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এ রেললাইনটি। প্রতিদিন এ পথে ৪০টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে। কিন্তু এ রেললাইনে কালিয়াকৈরের ভান্নারা, রতনপুর, মাটিকাটা, খাজারডেক, কালামপুর, বক্তারপুর, মাকিষবাথান, গোয়ালবাথান, সোনাখালী, নয়ানগর, ভাইমান টালাবহসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ও অবৈধ প্রায় ১৫টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের সোনাখালী এলাকার রেলক্রসিংটি বৈধ হলেও বছরজুড়ে বেহাল অবস্থায় থাকে। ওই রেলক্রসিংয়ের দুই পাশেই সড়কের খানাখন্দ থাকায় ভারী যানবাহন চলাচলে প্রায়ই সমস্যা হয়। বিশেষ করে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় অনেক ট্রাক ধীরগতিতে চলতে গিয়ে মাঝপথে ফেঁসে বিকল হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রায়ই ট্রেন চলাচলে বিঘœ ঘটে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

সেখানকার বেহাল সড়কে যানবাহন ফেঁসে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও যেন টনক নড়ে না রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের। চলতি সপ্তাহে ওই রেলক্রসিংয়ে কয়েকবার যানবাহন বিকল হলেও যেন নীরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সেখানে একটি যান ফেঁসে গেলে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের একটি ট্রেন থেমে যায়। এতে ওই রেললাইনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে। পরের দিন গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ৫টার দিকে একই স্থানে বালুভর্তি ট্রাক ফেঁসে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী লালমনি এক্সপ্রেসের একটি ট্রেন থেমে যায়। এতে এ রেললাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে এ রেললাইনের বিভিন্ন রেলস্টেশনে ট্রেন থেমে আবারও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এ ছাড়া কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কেও যান চলাচল প্রায়ই বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারী, ট্রেন ও সড়ক পথের যাত্রীসহ কর্মস্থলগামী মানুষ। এ ঘটনার পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালুভর্তি ট্রাকটি সরানোর চেষ্টা শুরু করে। পরে তারা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ফেঁসে যাওয়া ট্রাকটি সরিয়ে নিলে রেললাইনে ট্রেন ও সড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগে খামখেয়ালিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন ও সড়ক পথে যানবাহন চলাচল করছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির মতো ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। তবে এ বিষয়ে জানতে একাধিক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

যানবাহন ফেঁসে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও নীরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা দ্রুত রেলক্রসিং এলাকার সড়কটি সংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলে আর কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

কালিয়াকৈর হাইটেক রেলস্টেশনের মাস্টার খায়রুল ইসলাম জানান, রাতে ওই রেলক্রসিংয়ে গাড়ি ফেঁসে গেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এরপর সকালেও একই স্থানে বালুভর্তি ট্রাক ফেঁসে গেলে আবারও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

গাজীপুর রেলওয়ে উপসহকারী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ রেলক্রসিং এলাকায় গাড়ি আটকে গেলে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় ট্রেন সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।