মানুষ আর বন্য পাখির সম্পর্ক সাধারণত দূরত্ব, ভয় আর সতর্কতার। কিন্তু পটুয়াখালীর এক সাধারণ গাড়ি চালকের ভালোবাসা সেই চিরচেনা ধারণাকেই বদলে দিয়েছে। সেখানে জন্ম নিয়েছে এক অবাক করা বন্ধুত্বের গল্প। একটি বাজপাখি আর মানুষ, দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠেছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, বিশ্বাস আর মায়ার এক অনন্য সম্পর্ক। পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরীফ এলাকার বাসিন্দা সোহাগ খান। পেশায় অটো গাড়ি চালক হলেও এলাকায় এখন তিনি পরিচিত ‘বাজপাখির বন্ধু’ হিসেবে। কারণ, কয়েক মাস ধরে একটি বাজপাখি যেন ছায়ার মতো সঙ্গ দিচ্ছে তাকে।
সোহাগ খান জানান, প্রায় তিন মাস আগে বাড়ির পাশের একটি ভিটার তালগাছের নিচে আহত ও দুর্বল অবস্থায় পাখিটিকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তখন পাখিটি উড়তেও পারছিল না। মায়া থেকে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। শুরু হয় সেবাযতœ। নিজ হাতে খাবার খাইয়ে যতœ করে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন বাজপাখিটিকে। এক সময় পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। তখন সোহাগ সেটিকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, মুক্ত আকাশে উড়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও পাখিটি তাকে ছেড়ে যায়নি। বরং আরও বেশি আপন হয়ে উঠেছে। এখন সোহাগ ডাক দিলেই দূর আকাশ থেকে উড়ে এসে তার হাতের ওপর বসে পড়ে বাজপাখিটি। তারপর নিশ্চিন্তে তার হাত থেকেই খাবার খায়। যেন মানুষের ভাষা না বুঝেও বুঝে গেছে ভালোবাসার ভাষা।
ভয়ংকর শিকারি হিসেবে পরিচিত বাজপাখির এমন আচরণ দেখে বিস্মিত এলাকাবাসী। প্রতিদিনই নানা বয়স ও পেশার মানুষ ভিড় করছেন সোহাগের বাড়িতে। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ শুধু দাঁড়িয়ে দেখছেন মানুষ আর পাখির এই বিরল বন্ধনের দৃশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ছালাম আকন বলেন, ‘এখনকার সময়ে মানুষে মানুষেই বিশ্বাস কমে গেছে। সেখানে একটা বন্য পাখি একজন মানুষের ওপর এতটা নির্ভর করছে,এটা সত্যিই অবাক করার মতো।’ আবুল কালাম বলেন, ‘এটা শুধু পাখির গল্প না, এটা ভালোবাসার গল্প। যতœ পেলে প্রাণীরাও যে ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে জানে, সেটাই প্রমাণ করেছে এই বাজপাখি।’ প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের এই হৃদয়ছোঁয়া গল্প এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।