শেরপুরে কমতে শুরু করেছে পাহাড়ি ঢলের পানি

শেরপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। বুধবার জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর একটি অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জেলার সব পাহাড়ি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সংগ্রহ করা রেকর্ড অনুযায়ী চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে ৩.৭৮ মিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২.৭৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী এবং শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলের পানি নামতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে চেল্লাখালী নদীর ভাঙন অংশ পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফা সিদ্দিকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, শেরপুর সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত কুমার ধর বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড়ে সড়কের যে ফাটল দেখা দিয়েছে, সে বিষয়েও প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সকালে চেল্লাখালী নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি অনেকটাই কমে গেছে। ভাঙন দিয়ে পানি প্রবাহের কারণে যেসব ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে, সেসব এলাকার মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। নদীর পানি কমে গেলেও পাহাড়ি ঢলপ্রবণ নদীগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদী বাঁধ মেরামত ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।