জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫১-তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক টেনেহিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। 


বৃহস্পতিবার (১৪ মে)বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ( ১২ মে ) রাত প্রায় এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রী দুষ্কৃতিকারীর হামলার শিকার হন। এসময় আক্রান্ত ছাত্রীর সাহসী প্রতিরোধ ও চিৎকারে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে হামলাকারী পালিয়ে যায়।


এ ঘটনার পর বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নেতৃবৃন্দ, সাধারণ নারী শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাগুলোতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান ঘটনায় জড়িত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

প্রথম সভায় জাকসু নেতৃবৃন্দ সংকটের টেকসই সমাধানে প্রশাসনের কাছে ৭ দফা দাবি পেশ করেন। দ্বিতীয় সভায় সাধারণ নারী শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। পরে তৃতীয় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নারী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারভুক্ত যেসব দাবি রয়েছে সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান জানান, সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এ ঘটনায় কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।


উপাচার্য জানান, সাধারণ শিক্ষার্থী, জাকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে দুষ্কৃতিকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং দেশের প্রচলিত আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ, র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া প্রধান গেট থেকে প্রান্তিক গেট পর্যন্ত পুলিশের পাঁচটি চেকপোস্ট স্থাপন এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে আক্রান্ত ছাত্রীকে উদ্ধার ও সহযোগিতা করা শিক্ষার্থী, সংবাদ প্রতিনিধি এবং জাকসু নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা শাখাকে সহায়তা করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে উপাচার্যের সঙ্গে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এবিএম আজিজুর রহমান, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।