যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আরাগচির

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের পাঠানো ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ দুই দেশের মধ্যকার চলমান আলোচনাকে জটিল করে তুলছে। 

শুক্রবার (১৫ মে) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বক্তব্যে আরাগচি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার জন্য ইরান দায়ী নয়। তিনি দাবি করেন, তেহরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি, বরং তারা কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।

‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে তাদের ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে,’ বলেন আরাগচি। তিনি আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ কেবল ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ রাখা হবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক রহস্যময় বার্তা পোস্ট করেছেন। সেখানে একটি প্রাচীন আরবি প্রবাদ উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘যে গোপনে বিশ্বাসঘাতকতা করে, সে প্রকাশ্যেই উন্মোচিত হবে।’

বার্তায় সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি গোপন সফর করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে বাঘেয়ির বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পূর্ববর্তী এক বক্তৃতায় আরাগচি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা এক ধরনের বোকামি। আর এ কাজে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ ক্ষমার অযোগ্য। যারা বিভেদ তৈরিতে ইসরায়েলের সহযোগী হবে, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির এই অঞ্চলে।