হরমুজ ইস্যুতে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান-ওমান

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক উদ্যোগকে সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সমঝোতার আশা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (২ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, হরমুজ প্রণালির নতুন একটি নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে।

তিনি বলেন, 'আমরা এমন একটি পথ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এটি উত্তর কিংবা দক্ষিণের প্রচলিত রুট হবে না; বরং এমন একটি পথ হবে, যা দুই দেশের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান করবে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।' 

তবে বাঘেই স্পষ্ট করে বলেন, এই সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া নয়। 

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার 'কাঠামো' বা ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির অপর তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি সমঝোতার বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে ওমানও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ট্রাম্প এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোও সতর্ক অবস্থায় ছিল।

সমুদ্রপথে বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত