আবাহনীকে হারিয়ে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো বসুন্ধরা কিংস

এক বছর পর পেশাদার ফুটবল লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো বসুন্ধরা কিংস। আজ কুমিল্লায় শিরোপা নির্ধারিত লড়াইয়ে পরিণত ম্যাচে আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে তারা। 

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ডরিয়েলটন গোমেজের পেনাল্টি গোল এবং পরের মিনিটে সোহেল রানার বাঁ পায়ের দর্শনীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে কিংস।

এই জয়ে ১৭ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি।

বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের জন্মের পর আর কখনও শিরোপা জেতা হয়নি আবাহনীর। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছিল ধানমন্ডির ক্লাবটি। এরপর আরও চারবার রানার্সআপ হলেও শিরোপা জেতা দূরের স্বপ্নই রয়ে গেলো আকাশি-নীলদের জন্য।

আর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের পর থেকেই ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে বসুন্ধরা কিংস। টানা পাঁচবার লিগ জিতে তারা গড়েছিল নতুন রেকর্ড। তবে গত মৌসুমে সেই আধিপত্যে ছেদ ফেলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে। এবার সেই ট্রফি উদ্ধার করল কিংস।

সমীকরণ ও ম্যাচে যা ঘটলে

দুদলের পয়েন্টের পার্থক্য ছিল এক। বসুন্ধরা জিতলেই শিরোপা, অন্যদিকে ড্র বা জয়ে আবাহনী শিরোপা সম্ভাবনাটা শেষ রাউন্ড পর্যন্ত নিতে পারে- এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নামে দুদল। 

৪৩ মিনিটে আবাহনী জালে বল ঠেলে দিলেও অফসাইডের কারণে গোল পাননি কিংসের সোহেল রানা সিনিয়র। বিরতির এই অর্ধে আবাহনীর চেয়ে দারুণ খেলেও গোলশূন্য বিরতিতে যায় কিংস।

৬২ মিনিটে এক পরিবর্তন আনে আবাহনী। মিরাজুলের জায়গায় ব্রুনো মাতোসকে নামান কোচ মারুফুল হক। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার মাঠে নামার পরপরই বেশ কিছু আক্রমণ শানায় আবাহনী। ৬৫ মিনিটে এমেকার দারুণ ক্রসের নাগাল পাননি ব্রুনো। ৬৬ মিনিটে আরও একবার এমেকার পাসের নাগাল একটুর জন্য পাননি তিনি। 

৭২ মিনিটে বক্সে ফাহিম ঢুকে পড়লে তাঁকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি হজম করেন আবাহনী অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু। বাম দিকের টপ কর্নার দিয়ে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে দেন ডরিয়েলটন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের লিগের ১৮তম গোলে শিরোপার সুবাস পেতে থাকে বসুন্ধরা। 

৭৬ মিনিটে ব্রুনো মাতোসের শট ধরে ফেলেন শ্রাবন। পরের মিনিটে শিরোপা নিশ্চিত করা গোলটি করলেন কিংসের সোহেলে রানা। ছোট সোহেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে চকিতে নেয়া বা পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন সিনিয়র সোহেল।

৮১ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ হয়নি মিতুলের দৃঢ়তায়। ডান দিক দিয়ে উপরে উঠে পোস্টেই শট নেন সাদ উদ্দিন। সেটি আটকে দেন মিতুল, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ছোট বক্সের মধ্য থেকে ইমনের শট প্রতিহত হয় আবাহনী রক্ষণে। ৮৫ মিনিটে এমেকার ডান পায়ের শট বেরিয়ে যায় একটু উপরে দিয়ে। গো করা ৮ মিনিটেও আর হার এড়াতে পারেনি আবাহনী। ২-০ ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে কিংস।

আবার হারলো মোহামেডান

একই সময় অন্য চার মাঠে শুরু হয় চারটি ম্যাচ। এর একটিতে রহমতগঞ্জের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে মোহামেডান। রহমতগঞ্জের গোলটি করেন আরনেস্ট বোয়েটাং। ফর্টিজ ২-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। গোল দুটি করেন মুর্শেদ আলি ও পা বাবা। পুলিশ ২-০ গোলে হারিয়েছে আরামবাগকে। গোলদাতা রাহুল হোসেন রাব্বি ও শামিক কাগিমু। আর পিডব্লিউডি আবু সাঈদের একমাত্র গোলে হারিয়েছে ফকিরেরপুলকে।