বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ছিল টিনটিনের বুকের গভীরে। স্বপ্নের মধ্যে পিঠে আশ্চর্য দুই ডানা লাগিয়ে মেঘেদের পেছন ঘুরে বেড়াত সে। রঙধনুর বাড়িতে যেত। সেখান থেকে রঙ এনে চারপাশ রাঙিয়ে তুলত। এখন তার মনে আনন্দ নেই। হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসুস্থতায় কাতরাচ্ছে। ডাক্তার বলেছেন ব্লাড প্রেশার। আয়ু আছে বড়জোর এক মাস।
টিনটিন পাখি হয়ে উড়তে চাইত। ফুল হয়ে ফুটতে চাইত। পৃথিবীর সব আনন্দ বুকে নিয়ে মন খুলে হাসতে চাইত। এ রকম একটি শিশু অসুস্থ হয়ে মারা যাবে, সেটা মানতে রাজি নয় মায়াবী ভূতকন্যা টুনটুন। টুনটুনের ভাবতে কষ্ট লাগে, মাত্র আট বছরেই শেষ হয়ে যাবে টিনটিনের রঙিন জীবন। সে তার জীবন দিয়ে টিনটিনকে বাঁচাতে চায়। তোমরা ভাবছ, এ আবার কেমন কথা? ভূত বাঁচাবে শিশুকে? কোথায় ভূত দেখলে পিলে চমকে উঠে শিশুদের, সেখানে ভূত আবার বন্ধু হয় কী করে? মানুষের জীবন বাঁচায় কী করে? তোমাদের সেই ভাবনাকে আরও ডালপালায় ভরে দিয়ে লেখক মুস্তাফিজ শফি লিখেছেন তার বই মায়াবী সেই ভূতকন্যা। এই বইয়ে তোমরা পেয়ে যাবে ছোট্ট শিশু টিনটিন আর ভূতকন্যা টুনটুনকে।
আসলে টিনটিনের নাম রঞ্জনা। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে টুনটুন ওর নাম রেখেছে টিনটিন। গায়ের রঙ নীল বর্ণ। বিছানার সঙ্গে লেপ্টে থাকা শরীর। হাতে স্যালাইনের সুই। যন্ত্রণায় অস্পষ্ট শব্দ বের হচ্ছে মুখ দিয়ে। টুনটুনের মনে হয় টিনটিন যেন তার দিকে তাকিয়ে বলছে, ‘আমার জন্য কিছু একটা করো না, বন্ধু! আমি তো বাঁচতে চাই।’
টুনটুনের মন খারাপ হয়। চোখের কোনায় পানি চিকচিক করে। ভূতনগরের সবচেয়ে মায়াবী যে ভূতটা তার কন্যা এই টুনটুন। মানুষের রাজ্যে এসে হয়ে গেছে পাখি। তার বয়স টিনটিনের কাছাকাছি। মানুষের রাজ্যে আসার পর উচ্ছল প্রাণবন্ত এই মেয়েটিকে তার ভালো লেগে যায়। দুজনে হয়ে যায় বন্ধু। এবার তো বন্ধুর পাশে দাঁড়াতেই হয়! ভূতেরাও যে ভালো হয় তা দেখব আমরা টুনটুনের মাধ্যমে। নিজের জীবন বাজি রেখে নিজ রাজ্য থেকে জিয়নকাঠি নিয়ে এসে বন্ধুকে বাঁচায়। মারা যায় সে। কিন্তু ভালো কাজের বিনিময় তো ভালো হয়-ই। সে কারণে জিয়নকাঠির থেকেও শক্তিশালী কাঠির মাধ্যমে টুনটুনের দাদা নাতনির জীবন বাঁচান। মারা যান দাদা। টুনটুন পায় অমরত্ব। এই বইয়ের ভূতগুলো এ রকমই। তারা ভয়ংকর নয়, বরং বন্ধু হিসেবেই হাজির হয় শিশুদের সামনে। সেই বন্ধু হওয়ার গল্প চাইলেই তোমরা পড়ে নিতে পারো মায়াবী সেই ভূতকন্যা বই থেকে। বইটি তোমাদের জন্য প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.। তোমরা পড়ো। আর এই বইয়ের গল্প বলে চমকে দাও বন্ধুদের।