মৌসুমের আগেই অপরিপক্ব আম বাগান থেকে তুলে কার্বাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বেশি দামের আশায় এই কাজটি করছেন। নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন ও উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেলতলা আম বাজারে অবাধে বিক্রি করছে জনপ্রিয় জাতের হিমসাগর আম। উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজারে ব্যাপকভাবে এসব আম রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পাকিয়ে বিক্রি হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের মধ্যে।
গত বুধবার সরেজমিন বেলতলা আমবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিক লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু আম ব্যবসায়ী ও কিছু চাষি অপরিপক্ব হিমসাগর আম গাছ থেকে নামিয়ে বাজারজাত করছেন। বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে হিমসাগর আম দেখা গেলেও অধিকাংশ আমই এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। প্রতিদিন ভোর থেকে বেলতলা আম বাজারে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব আম আনা হচ্ছে। পরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর আমের সুনাম ও গুণগতমান ধরে রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা করে থাকে। সেই ক্যালেন্ডারে কোন জাতের আম কখন গাছ থেকে নামানো যাবে তা নির্ধারণ করা হয়। এ বছর গোবিন্দভোগ, বোম্বাইসহ দেশি জাতের আম বাজারজাতকরণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ মে, হিমসাগর আম ১৭ মে, ল্যাংড়া ২৮ মে, আম্রপালি-মল্লিকা ৬ জুন থেকে বাজারজাত করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা মানছেন না। বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নিতে আগেভাগেই অপরিপক্ব আম বাজারে তোলা হচ্ছে।
বাজারে আম কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাইরে থেকে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও অনেক আমে স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু আম কাটার পর ভেতরে কাঁচা ও শক্ত দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। বেলতলা আম বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, বাজারের চাহিদা ও প্রতিযোগিতার কারণেই আগাম আম উঠছে। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আগেই আম নিতে আসছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা বেশি দামের আশায় আগাম আম সংগ্রহ করছেন। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, আম ক্যালেন্ডারের নির্দেশনা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে যদি কোন গাছের আম পরিপক্ব হয়, সেক্ষেত্রে কৃষি অফিস থেকে প্রত্যায়ন নিয়ে বাজারজাত করতে পারবেন।
বেলতলা আম বাজারে নির্ধারিত সময়ের আগে অপরিপক্ব হিমসাগর আম বাজারজাত করা হচ্ছেÑ এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা আরও বলেন, ‘আমরা তদন্তসাপেক্ষে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’