সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়ে ঘরের দরজা খোলা রাখতে চিঠি পাঠিয়েছে।
এর মধ্যে আবু সাঈদের বাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা গরু লুট করে নিয়ে যেতে ব্যার্থ হয়ে তার মেয়ে প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুনকে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এছাড়া চেতনানাশক স্প্রের মাধ্যমে বাড়ির সবাইকে ঘুমে অচেতন করে দুর্বৃত্তরা টেকুয়াপাড়া গ্রামের আবু হোসেনের বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দামের একটি ষাড়গরু ও মো. আমজাদ হোসেনের বাড়ির শোকেজের লকার ভেঙ্গে নগদ ১ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণের গহনা ও ৫ ভরি রূপার গহনাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এতে তার ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার(১৫ মে) রাতে মো. আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে গ্রামবাসির প্রতিটি রাত কাটছে চুরি-ডাকাতির চরম আতংকে। চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ায় কমলমতি শিশুদের তারা একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাজার জনশুন্য হয়ে পড়ছে। গ্রামের যুবকরা রাত জেগে পাহারা দিয়েও চিঠি দিয়ে হুমকি ও চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে পারছে না। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গত ১২ মে মঙ্গলবার মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন তার স্ত্রী সারা খাতুন গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। ঘরে ঢোকার সাথে সাথে তার নাকে এক ধরণের স্প্রের গন্ধ লাগে। এর পরপর তিনিও গভীর ঘুমে স্ত্রীর পাশেই ঢলে পড়েন। গভীর রাতে জেগে উঠে দেখেন তার ঘরের শোকেজের লকার ভেঙ্গে দুর্বৃত্তরা নগদ ১ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণের গহনা ও ৫ ভরি রূপার গহনাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এতে তার ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে টেকুয়াপাড়া গ্রামের আবু হোসেন জানান, প্রায় ১৫দিন আগে জানালা দিয়ে ঘরে চেতনানাশক স্প্রে করে দুর্বৃত্তরা তার ঘর থেকে ২ লাখ টাকা দামের একটি ষাড়গরু চুরি করে দিয়ে গেছে। এতে তার ২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম, সানোয়ার হোসেন জানান, গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসবো, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস.........? ইতি রঘু ডাকাত।’
তারা আরও বলেন, একের পর এক এ ভাবে চিঠি দেওয়ার ঘটনায় উদ্বিঘ্ন হয়ে গ্রামবাসী গত বৃহস্পতিবার(১৪ মে) রাতে এ গ্রামের ক্লাবঘরে এক জরুরি বৈঠক চলা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা আবু সাঈদের বাড়ি থেকে ২টি গরু লুটি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আবু সাঈদের মেয়ে প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুন টের পেয়ে ডাক, চিৎকার শুরু করে। এ সময় বৈঠকের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা গরু ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর ওই রাতেই বিথি খাতুনকে উদ্দেশ্য করে ঘরের মধ্যে একটি রক্তমাখা চিঠি ফেলে রেখে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিঠিটি হাতে পেয়ে বাড়ির লোকজন আতংকিত হয়ে পড়েন। চিঠিতে লেখা আছে, ‘আপনার মেয়ের জন্য আজকে বেঁচে গেলেন, ভাইবেন না আবার বাচবেন। এই বছরের প্রথম বারের মিছ হলো ঐ ম্যাডামের জন্য, দেখে লেবো মেয়ে মানুষের এত সাহস ভালো না। কালকে রাতে রাতে বাচতে চাইলেদরজা খোলারাখবেন। নাহ রাখলে জিন্দা লাস বানিয়ে দিবো। ইতি রঘু ডাকাত। কোট নং ০৬’। এ ভাবে প্রতিটি চিঠিতে কোর্ড নম্বর দেওয়া আছে। রক্তমাখা এ চিঠি পাওয়ার পর থেকে পুরো গ্রামবাসির মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিয়েও চুরি-ডাকাতি ও চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে টেকুয়াপাড়া মিলন সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা গত ৪দিনে আলতাব হোসেন, ঈমান আলী, বাবর আলী মেম্বর, আব্দুল হামিদ, আব্দুল খালেক ফকির, বাবলু ফকির, শাহীন ফকির, ইসমাইল ফকির, জলিল মন্ডল, শাহ আলম সহ অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে এ ধরণের চিঠি পাঠিয়েছে। এ চিঠি পাওয়ার পর থেকে আমাদের ক্লাবের সদস্যরা রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে। তার পরেও চুরি ও চিঠি পাঠানো ঠেকানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এক বা একাধিক কোরবানির ষাড়গরু লালন পালন করা হচ্ছে। এ সময় এ চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাই আতংকের মধ্যে রয়েছে। চিটিতে হত্যার হুমকি দেওয়ায় ছোট কমলমতি শিশুদের একা একা স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকরা ভয় পাচ্ছে। চোর-ডাকাতের ভয়ে সন্ধ্যার পওে বাজার ও রাস্তাঘাট জনশুন্য হয়ে পড়ছে। ফলে গ্রামজুড়ে এক ভয়ংকর আতংক রিরাজ করছে। তিনি এই চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের অতিদ্রুত সনাক্ত সহ গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি(তদন্ত) নাজমুল কাদের বলেন, ঘটনাটি জানার পর শুক্রবার(১৫ মে) সন্ধ্যায় ওই গ্রামে পুলিশ পাঠিয়ে খোজ খবর নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওয়ায় আনা হবে। অপরদিকে চুরির ঘটনায় ওই গ্রামের মো. আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন বলেন, শুক্রবার(১৫ মে) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানার পর এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শাহজাদপুর থানার ওসিকে বলা হয়েছে।