শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের মারধরে চিকিৎসকসহ আনসার সদস্যসহ সাতজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় কোনো মামলা হয়নি, তবে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গুরুতর আহত হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা নাসির ইসলাম সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
আহত অন্যরা হলেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), সদর হাসপাতালের আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮)। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত চিকিৎসক নাসির ও হাসপাতাল জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পোনে ১টার দিকে তিনি মারা যান। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ এনে রাত ১টার দিকে লাল মিয়া কাজীর স্বজনসহ ৭০ জনের একটি দল চিকিৎসক নাসির ইসলাম ওপর চড়াও হন। এ সময় হামলাকারীরা ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে নাসিরের মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং মারধরে গুরুতর আহত হন। এসময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার ও ছয় আনসার সদস্য চিকিৎসককে উদ্ধার করতে আসলে তাদেরকে মারধরে আহত করা হয়। পরে চিকিৎসক নাসিরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সোলাইমান কাজী (আল আমিন) ও জসীম উদ্দিন নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনও মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা আল-আমিন ও জসীম নামের দুজনকে আটক করেছি।
আটক সোলাইমান কাজী (আল আমিন) বলেন, আমার মামা চিকিৎসকের অবহেলায় মারা গেছেন। কে বা কারা ডাক্তারের ওপর হামলা চালিয়েছে জানি না। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক নাসির ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। আর হামলার ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের ওপর এমন হামলা চলতে থাকলে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিবে কিভাবে? এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।