একটা কাভার্ড ভ্যানকে ট্রাফিক পুলিশ সিগনাল দিল গাড়ির চালক গাড়ি পাশে রেখে দৌড়ে এসে বললেন, স্যার আমি কিছু করি নাই, আমার গাড়ির কাগজপত্র সব ঠিক আছে আমারে ছেড়ে দেন উপস্থিত থাকা ট্রাফিক টিআই শফিকুল ইসলাম হাসিমুখেই বললেন আরে ভাই এত ভয় পাচ্ছেন কেন আসেন আমাদের সাথে আসেন। তাদের সাথে গেলেন কাভার্ড ভ্যান চালক রফিক মোল্লা। হেলথ ক্যাম্পে তার বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেবা দিলেন সেখানকার অভিজ্ঞ ডক্টররা। হাসিমুখেই বের হতে হতে রফিক মোল্লা বলছিলেন, ভাবছিলাম ট্রাফিক ধরে মামলা দিবে, এখন দেখি স্বাস্থ্য সেবা দেয়।
শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় উত্তরা কামারপাড়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ৮টি বিভাগের ১০টি ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত পরিবহন শ্রমিক ও গণপরিবহন চালকদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২ সালে সড়ক পরিবহন প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০ লাখ পেশাদার চালক রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চালক উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ, অনিদ্রা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ বলেন, দীর্ঘ সময় কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং বায়ু ও শব্দদূষণের কারণে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। যারা আমাদের এখানে স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছেন তারা চাইলে যে প্রতিষ্ঠানটি আমাদেরকে সহযোগিতা করছে সেখানে গিয়েও তারা স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন সেখানে তাদের জন্য একটি ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা থাকবে।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রুবেল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘বাংলাদেশ পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, জনসেবামূলক কাজেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবহন শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা পাশাপাশি তাদেরকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে। সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম। ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশনা পেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান রুবেল হক।’
অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের স্বাস্থ্য সেবা উদ্যোগ অনেকেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের মাঝে। কামারপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান অধ্যক্ষ খোরশেদ জাহান বলেন, নতুন সরকার আসার পর সবকিছুই যেন ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচার ব্যবহারে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিগত সময় স্বাস্থ্য সেবা মূলক এ ধরনের কোন উদ্যোগ ট্রাফিক পুলিশকে নিতে দেখা যায়নি। এসব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে দৃশ্যমান হলে মানুষ সত্যিকার অর্থে উপকৃত হবে আর এমন পরিবর্তন দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।
হেলথ ক্যাম্পে অংশ নেওয়া চালক ও সেবা প্রত্যাশীরা উদ্যোগটিকে প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন। ট্রাক হেল্পার মো. রিপন বলেন, ‘ডিউটির ফাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা তার সাথে বিনামূল্যে ওষুধ ও পরামর্শ পেয়ে আমরা উপকৃত হচ্ছি।’ ট্রাফিক পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াবে। ‘শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি খুবই উপকারী।’
হেল্থ ক্যাম্পের তথ্য অনুযায়ী ক্যাম্পে বিনামূল্যে রক্তচাপ, চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। প্রায় ৩ শতাধিক সেবা প্রত্যাশীদের সেবা প্রদান করেছেন হেলথ ক্যাম্প।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রুবেল হক, সিনিয়র সহকারী ট্রাফিক পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মামিয়ান মিয়া, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।