জাবি উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলায় ছাত্রদলের তীব্র প্রতিবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে “ফ্যাসিস্ট” হিসেবে আখ্যায়িত করাকে সত্যের অপলাপ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাবি শাখা। 

রবিবার (১৭ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তরের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ছাত্রদল। সংগঠনটি সকল ধরনের যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের” ব্যানারে পরিচালিত আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে “ফ্যাসিস্ট” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। 

ছাত্রদলের দাবি, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারির একজন সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অনিয়ম, নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সাম্প্রতিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে দাবি করা হয়। এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপাচার্যকে “ফ্যাসিস্ট” হিসেবে আখ্যায়িত করাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বলে মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক এ ধরনের বিভ্রান্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, একটি সংবেদনশীল অপরাধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর পরিবর্তে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা উচিত। তারা আশা প্রকাশ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সত্য, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।