জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ এবং তার পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে একটি জরুরি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় তদন্ত কমিটি গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে এই তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ আখতার, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জহির রায়হান। এছাড়া কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ।

এদিকে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তায় জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন রাস্তায় এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। এই ঘটনার পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে এবং অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামসহ ৬ দফা দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ে আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনঃআন্দোলন শুরু করেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবি করেন।