রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেছেন, সরকার গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বিএনপি জাতির সাথে বেইমানি করেছে। এই বিএনপি জাতীয় মুনাফেক ও বেইমানের দল। জনগণের রায়কে তারা মেনে নেয়নি।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল শেষে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলে, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একই সঙ্গে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একটি হলো জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে, জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে, জনগণের ওপর গণভোট; আরেকটি হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি সরকার সরকার গঠন করার পরে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের গণরায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা জানাতে চাই, আপনারা ৪৯ শতাংশ ভোট নিয়ে সরকারের শপথ নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেদিকে রায় দিয়েছে, সেখানে আপনারা সেই অনুযায়ী শপথ না নিয়ে জাতির সঙ্গে জাতীয় মুনাফিকি ও বেইমানি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৫ সালে যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন রাস্তায় নেমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আবেদন করেছিল, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মিছিল করেছিল, তখন আপনাদের মন্ত্রীরা বলেছিল, ‘বাংলাদেশে শুধুমাত্র শিশু এবং পাগলেরাই নিরপেক্ষ থাকে।’ জনগণের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ১২ দিনের মধ্যে আপনারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা দেশের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আবার দেশের বিরুদ্ধে লেগেছে। আপনারা আমাদের কথা পরে মেনে নিয়ে আবার সেই ব্যবস্থা চুপিসারে সরিয়ে দিয়েছেন। আমরা সেজন্য বলতে পারি, এই বিএনপি হলো জাতীয় মুনাফিক ও বেইমানের দল।
এ সময় তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা যদি জনগণের এই গণরায় না মেনে নেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আপনাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। যদি প্রয়োজন হয়, আমরা আবার শহীদ হতে প্রস্তুত আছি। যদি প্রয়োজন হয়, ছাত্রজনতাকে এই রাজপথে নিয়ে আপনাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি বিজয়-২৪ হল, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন আবাসিক হল, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জোহা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এসময় তারা "জুলাই সনদ মেনে নে, নইলে গদি ছাইড়া দে", "একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ধর", "আলী-রায়হান-মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ", "চান্দা লাগলে চান্দা নে, জুলাই সনদ মাইনা নে", "গণভোটের গণরায়, মানতে হবে মেনে নাও", "লীগ ধর জেলে ভর" "আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?" -এমনসব স্লোগান দিতে থাকেন।
