বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাকালু জয় শেষে দেশে ফিরে অভিযানের রোমাঞ্চ, ভয়াবহতা ও বেদনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলী। রবিবার (১৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের প্রতিটি মুহূর্তের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
বাবর আলী জানান, এর আগে একাধিক আট হাজারি পর্বত আরোহণ করলেও মাকালুর মতো ভয়াবহ ঠান্ডা ও তীব্র বাতাসের মুখোমুখি কখনও হইনি। এই পর্বতে কাটানো প্রতিটি মিনিটই ছিল সংগ্রামের। আবহাওয়ার আচরণও ছিল অত্যন্ত অস্থির ও রহস্যময়, যা অভিযাত্রীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার স্মৃতিও আমাকে নাড়া দিচ্ছে। চূড়া স্পর্শের পর নামার পথে তুষারধসে প্রাণ হারান মার্কিন সহযাত্রী শেলি জোহানসেন। এছাড়া রুশ পর্বতারোহী কন্সট্যান্টিন তুষার ক্ষতের শিকার হয়ে হাত-পায়ের কয়েকটি আঙুল হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাবর বলেন, পর্বতে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। লাল-সবুজ পতাকা হাতে শৃঙ্গে ওঠার গর্ব যেমন আছে, তেমনি সহযাত্রী হারানোর বেদনাও তাকে ভারাক্রান্ত করে।
বাংলাদেশের একমাত্র পর্বতারোহী হিসেবে আট হাজার মিটারের পাঁচটি শৃঙ্গ জয় করা বাবর আলী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। চলতি বছরে পাকিস্তানের নাঙ্গা পর্বত অভিযানের ইচ্ছা থাকলেও অর্থ সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি মাকালু অভিযানকে অগ্রাধিকার দেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের ১৪টি আট হাজারি পর্বতের সবগুলোতেই বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর স্বপ্ন দেখছি। তবে এ ধরনের অভিযানের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বাবর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পর্বতারোহী সংগঠন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সভাপতি ফরহান জামান, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নিটওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইমতিয়াজ ইবনে ইমাম। এ অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, মাই হেলথ ও রহমান গ্রোসারিজ।
পৃথিবীতে আট হাজার মিটার (২৬,২৪৬ ফুট) বা ততোধিক উচ্চতার পর্বত আছে চৌদ্দটি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এর চারটি পর্বতের চূড়া ছুঁয়েছিলেন পর্বতারোহী বাবর আলী, যে কীর্তি নেই আর কোনো বাংলাদেশির। ২ মে ভোরে নিজের পঞ্চম আট হাজারি পর্বত হিসেবে স্পর্শ করেন পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ ‘মাকালু’ শিখর। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতে এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পর্বতারোহীর সফল অভিযান।