ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার থেকে সিঅ্যান্ডবি পর্যন্ত ফুটওভার ব্রিজগুলো যাত্রীসাধারণের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি, ভোগান্তি আর আতঙ্ক নিয়ে পারাপার হতে হয় এসব ব্রিজ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২১টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে এখানে। এর মধ্যে ১৯টি ওভারব্রিজই প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়।
সরেজমিন ফুটওভার ব্রিজগুলো ঘুরে দেখা যায়, নাগরিক ভোগান্তি, ঝুঁকি আর আতঙ্কের চিত্র। বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজে ওঠার মুখে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এগুলো ছড়াচ্ছে কটু গন্ধ। ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি ভাঙা, জং ধরা ও ফাঁকা হয়ে গেছে। পাটাতনও ভাঙা। রোদ-বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে ছাউনি দেওয়া হলেও একাধিক ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে সেটিও নেই। বৃষ্টিতে পানি জমে কদমাক্ত ও পিচ্ছিল পাটাতন ও সিঁড়ি। এমন ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে প্রতিদিন এসব ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছে হাজার হাজার মানুষ।
ফুটওভার ব্রিজগুলোতে নেই কোনো বাতি। রাতের অন্ধকারে আতঙ্ক নিয়ে পার হতে হয়। এ ছাড়া রাতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মোবাইল, টাকা-পয়সা হারানোর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে পথচারীদের।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বলিয়ারপুর ফুটওভার ব্রিজ, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের তিনটি ফুটওভার ব্রিজ, রাজফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজ ও সাভারবাজার বাসস্ট্যান্ডের তিনটি ও বিপিএটিসির ফুটওভার ব্রিজের। বলিয়ারপুর বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজ ও রাজ-ফুলবাড়িয়া ফুটওভার ব্রিজ ঘেঁষে বিশাল ময়লার ভাগাড়, অ্যাপ্রচ সড়ক ভাঙা, ময়লা-কাদা মাখামাখি বৃষ্টির পানি পড়ে পিচ্ছিল অবস্থা। জং ধরা সিঁড়ি, জায়গায় জায়গায় ফুটো, উপরে নেই ছাউনি।
কথা হয় রাজ-ফুলবাড়িয়া ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারী গার্মেন্টস শ্রমিক সুফিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতে ভাঙা ও জং ধরা, ফুটো হয়ে গেছে সিঁড়ি ও পাটাতন। তার ওপর বৃষ্টির পানিতে ময়লা মিশে পিচ্ছিল হয়ে যায়। ভয় লাগে ব্রিজ পার হতে। প্রতিদিন কষ্ট করেই ব্রিজ পার হতে হয়। কোনো কোনো সময় ব্রিজের ওপর দিয়ে না গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিচের মহাসড়কের দিয়েই পারাপার করি।
স্থানীয় পথচারী শাহিন আলম বলেন, সিঁড়িতে উঠলেই আতঙ্ক লাগে। লোহার পাতগুলো ভেঙে গেছে, কখন পা ফাঁকা জায়গায় পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
হেমায়েতপুরের স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, আগেও কয়েকবার হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের ব্রিজটির সংস্কার করা হয়েছিল। তবে তা ছিল সাময়িক। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে কাজ না করে পুরো ব্রিজটি সংস্কার করে টেকসই করা বা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের সুবিধা জন্য ২১টির মধ্যে মাত্র দুটি ব্রিজে র্যাম্প সুবিধা রয়েছে। র্যাম্প থাকা সাভার থানা স্ট্যান্ড ও সিআরপি রোড স্ট্যান্ড ফুটওভার ব্রিজ দুটিতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ পথচারীদের। র্যাম্পগুলো দিয়ে নামতে ডাল বেশি এবং উঠতে কিছুটা উঁচু হওয়ায় ভোগান্তি হয় তাদের। প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের জন্য ব্রিজে র্যাম্প বসানো হলেও মোটরসাইকেল ও সাইকেলচালকরা সেটিকে তাদের পারাপারের জায়গা বানিয়ে ফেলেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজডের (সিআরপি) অবস্থান সাভারে হওয়ার কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের আনা-নেওয়া এখানে বেশি। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সব ওভারব্রিজ প্রতিবন্ধীবান্ধব করা উচিত বলে মনে করে নাগরিক সমাজ।
সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচিত অতিদ্রুত প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ও শিশুদের কথা বিবেচনায় এনে যেসব ফুটওভার ব্রিজে র্যাম্প সুবিধা নেই, সেগুলো র্যাম্প সুবিধার আওতায় আনা। তা ছাড়া র্যাম্পগুলোর কতটুকু উঁচু বা ঢাল দেওয়া হলে স্বাস্থ্যসম্মত হয় সেটি নির্ধারণ করা জরুরি।
যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (কল্যাণপুর) দায়িত্বরত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহিম রহমান খান বলেন, সাভারের ফুটওভার ব্রিজগুলোর ত্রুটি, ঝুঁকি ও নাজুক অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজগুলো পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিঁড়িসহ ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।