জ্বালানির দুষ্টচক্র থেকে বেরুতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি

সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, সে অনুযায়ী আমরা পুরো কাঠামোকে সাজাচ্ছি। এসব পরিবর্তন না আনলে দেশের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি এমন কিছু চুক্তি করা হয়েছিল, যার ফলে জ্বালানি খাত কার্যত কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফলে পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে গেলেও কাঠামোগত বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কাঠামোগত এবং ব্যবস্থাগত বিষধর চক্র। এটা থেকে যতক্ষণ না বেরিয়ে আসতে পারব, ততক্ষণ ভর্তুকি গুনতে হবে। এ দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সিপিডি ও ঢাকা স্ট্রিমের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবহারের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক, অস্বচ্ছ চুক্তি ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। এ দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার কাঠামোগত দুর্বলতা ভাঙতে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমত, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি পুনর্গঠন করা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো হবে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প খাতের জন্য আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে। চতুর্থত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে; এ লক্ষ্যে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। পঞ্চমত, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে একটি ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণ করা হবে।

সিপিডির তথ্য মতে, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট ইনস্টল ক্যাপাসিটি বর্তমানে ১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ৮৩ শতাংশই এসেছে সৌরশক্তি থেকে। অন্যদিকে বায়ুবিদ্যুৎ থেকে মাত্র ৬২ মেগাওয়াট এবং জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় রুফটপ সোলারের সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৬২ মেগাওয়াট-পিক।

সিপিডি নবায়নযোগ্য শক্তি উন্নয়ন তহবিল (আরইডিএফ) নামে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এডিপি বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করে সংস্থাটি।