আয়কর না বসানোর দাবি বাইকচালকদের

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনার প্রতিবাদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন বাইকাররা। তাদের অভিযোগ, আসন্ন বাজেটে মোটরসাইকেলের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১১-১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে দেশের বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বাইকারদের পক্ষে স্মারকলিপি জমা দেন একেএম ইমন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতে যে মোটরসাইকেলের দাম প্রায় ১ লাখ টাকা, বাংলাদেশে সেটি কিনতে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। মোটরসাইকেল এখন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বাহনে পরিণত হয়েছে। রাইড শেয়ারিং ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অনেক মানুষ প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। নতুন করারোপ করা হলে তাদের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাইকারদের দাবি, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা এরই মধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বীমা ও জ্বালানির ওপর বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তারা মোটরসাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিবহনমাধ্যম হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান বক্তারা।

যশোরে মানববন্ধন : যশোর প্রতিনিধি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে যশোরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ বাইকার অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে  মানববন্ধন হয়। এতে জেলার বিভিন্ন বাইকিং কমিউনিটির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বাইকার অংশ নেন।

মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন যশোর বাইকিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ও সংগঠনের সভাপতি এসকে সুজন। পরে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা বলেন, বৈধভাবে মোটরসাইকেল ক্রয়, রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বীমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধের পর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

স্মারকলিপিতে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার বা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা, মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করা এবং পরিবহন খাতকে জনবান্ধব রাখার দাবি জানানো হয়।