প্রকৃতির সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও সুন্দর প্রাণীগুলোর মধ্যে প্রজাপতি অন্যতম। এটি পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এবং বৈচিত্র্যময় পতঙ্গ। অতিরিক্ত ঠা-ায় উড়তে পারে না প্রজাপতি। স্বাচ্ছন্দ্যে ওড়ার জন্য দেহের তাপমাত্রা থাকতে হয় ৮২-১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। অর্থাৎ ২৭-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এরা ভালো উড়তে পারে। কিন্তু তাপমাত্রা কমে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নামলে, এরা আর উড়তে পারে না। কারণ, প্রজাপতি শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। এরা মাত্র ১ মাস বাঁচে। তাদের জীবনের ৪টি ধাপ। ডিম, লার্ভা, পিউপা ও প্রাপ্তবয়স্ক। পিউপা থেকে বের হওয়ার পর সর্বোচ্চ এক মাস বাঁচে প্রজাপতি। তবে সব প্রজাপতির জীবন এত দীর্ঘ হয় না। কোনোটা আবার মাত্র ১৪ দিনেই মারা যায়। কিছু ক্ষুদ্র নীল রঙের প্রাজপতি বাঁচে কেবল কয়েক ঘণ্টা। তবে ব্যতিক্রমও আছে। যুক্তরাজ্যে পেইন্টেড লেডি নামে এক প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায়। এরা ৯ মাস পর্যন্ত বাঁচে। কিন্তু সাধারণত এদের জীবনকাল ২-৪ সপ্তাহ। জীবনের এই স্বল্প সময়ে এরা শুধু খাদ্য খোঁজে এবং আরও প্রজাপতি উৎপাদনের, অর্থাৎ সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রজাপতি যা দেখে, তা আমরা দেখতে পাই না। সঙ্গী ও সঠিক ফুল খুঁজে পেতে, অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে এরা। আমরা এই অতিবেগুনি রশ্মি খালি চোখে দেখতে পাই না। মূলত প্রজাপতির চোখে ৬ বা তারচেয়ে বেশি রঙের ফটোরিসেপ্টর বা আলোকগ্রাহী স্নায়ু রয়েছে। সাধারণ দৃষ্টিতে প্রজাপতির চোখ ২টি। কিন্তু একটি প্রজাপতি ১২০০০ লেন্সের সাহায্যে দেখতে পায়। এই হিসেবে তাদের চোখ ১২০০০।