চাকরির বাজার

তরুণদের জন্য সুযোগ বাড়ুক

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৭ এএম

তরুণরা স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। পরিবারের অবস্থা ও সামাজিক পারিপাশির্^কতা অনুযায়ী যার যার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শেখার একটি পর্যায় অতিক্রম করে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চায়। ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান সংহত করে ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা করতে চায়। এই স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা তরুণদের, বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বড় ধরনের অভাব; যেটা সহজভাবে ‘চাকরি’ হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয়দিকে অবস্থা প্রায় একই রকম। তবে ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) প্রযুক্তির নানারকম সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঠিক নির্দিষ্ট অফিসে সশরীরে হাজির না হয়ে করা যায়, দেশে এমন চাকরির সুযোগ বাড়ছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অনলাইনে বিদেশের কাজও করা যায়। এমন সুযোগ বেশি আছে বেসরকারি খাতে। আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজও করা যায়। আয়ও মন্দ নয়। এতে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে কাজের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। ডাকে ও কুরিয়ারে আবেদন করা বেশ কমে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা অনুযায়ী, একটি পদের বিপরীতে অনলাইনে বর্তমানে গড়ে ২০১ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করছেন। অনলাইন চাকরির পোর্টাল বিডিজবসের ১০ বছর ৬ মাসের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা প্রতিবেদনে বিআইডিএস এ কথা বলেছে।

প্রতি সপ্তাহে অনলাইন চাকরির বাজারে গড়ে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। একই সময়ে গড়ে ৩ হাজার ৬৪৬টি পদ খালি ছিল এবং নতুন করে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ১ হাজার ১৫৪টি।

বিডিজবসের মাধ্যমে যেসব কাজের আবেদন জমা হয়, সেসব কাজের একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতের। কাজেই একটি পদের বিপরীতে বর্তমানে গড়ে ২০১ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করা থেকে এটা স্পষ্ট যে তরুণদের তীব্র প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করেই একেকটি কাজ পেতে হয়। স্বাভাবিক সময়ে অনলাইনে করা যাবে, এমন কাজের একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ১৫৯ থেকে ২৩৫ জনের মধ্যে থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট বা বড় ধরনের ধাক্কার সময়ে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়।

শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের কাজে, বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে আবেদনকারীদের বেশিরভাগ উচ্চশিক্ষিত এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো প্রশিক্ষণ আছে এমন। আঞ্চলিক কর্মসংস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল উচ্চশিক্ষা এখন আর তরুণদের কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সরকারি ও বেসরকারি ভালো চাকরির বাজারে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদের বিপরীতে যখন লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে, তখন তরুণদের অনেকেই আসেন অনলাইনে করা যাবে, এমন কাজের খোঁজে।

বিআইডিএসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শ্রমবাজারের বাস্তব চিত্র, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং নীতির প্রভাব নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় নীতিগত সংশোধন করা সম্ভব।

দেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান যে প্রবণতা, তাতে বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ধীরগতি নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেওয়া ইশতেহার অনুযায়ী, বর্তমান সরকার তরুণদের জন্য দেশে ও বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ যে কেবল সরকারি খাতেই হতে হবে, এমন নয়। আমরা চাই সরকার তরুণদের জন্য শত দুয়ার খুলে দেওয়ার মতো পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করবে। প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং  স্বকর্মসংস্থানের জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। উদ্যোক্তা হিসেবে বিকশিত হতে পারলে নিজের কাজ করে অন্যকেও কাজ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু উদ্যোক্তা হতে সাহসও দরকার। এ সাহস ও সমর্থন আসতে হবে পরিবার, সমাজ, এমনকি রাষ্ট্রের তরুণবান্ধব সৃষ্টিশীল বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে। আমরা চাই সবার সম্মিলিত চেষ্টায় তরুণদের জন্য একের পর এক নতুন সুুযোগ আসুক, আসতেই থাকুক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত