বিআরটি প্রকল্প না ভেঙে দ্রুত চালুর দাবি বিশেষজ্ঞদের

ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প না ভেঙে দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) বলছে, বিআরটি শুধু একটি বাসসেবা নয়, বরং নগর পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর মাধ্যম। আধুনিক বিআরটি ব্যবস্থা দ্রুতবর্ধনশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের কুরিচিবা শহরে যাত্রা শুরুর পর বর্তমানে বিশ্বের ১৯১টি শহরে বিআরটি চালু রয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপির কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘গণপরিবহন নির্ভর নগর : ঢাকা-গাজীপুর বিআরটির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, সহসভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহদি আহসান ও গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি শামসুল হক প্রমুখ।

মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, ২০১২ সালে শুরু হওয়া ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো চালু হয়নি। অথচ প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের মাত্র ৩ শতাংশ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়েই ‘বেসিক বিআরটি’ চালু করা সম্ভব। উন্নতমানের বাস কিনতে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনশ কোটি টাকা এবং ইলেকট্রিক বাস চালু করতে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাতিল করতে গেলে স্টেশন, র‌্যাম্প ও এস্কেলেটর অপসারণ এবং ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০০ থেকে ১২০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিআরটি চালু হলে যাত্রাসময় প্রায় ৩০ শতাংশ কমবে, জ¦ালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং নারী ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে গাজীপুরে রিয়েল এস্টেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের সম্প্রসারণেও এটি ভূমিকা রাখবে।