ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যখন ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হলো, তখন বিশ্ব মিডিয়ার সিংহভাগ আলো কেড়ে নিয়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। কিন্তু সেই জাঁকজমকপূর্ণ আবহের আড়ালে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে নিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ ফরোয়ার্ড—রায়ান ভিতর।
ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথের এই উদীয়মান তারকাকে যখন কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে নোটিশে নিলেন, তখন ভেঙে যায় ব্রাজিলের দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আক্ষেপের রেকর্ড। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ডাক পেয়েছিলেন কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও (ফেনোমেনন)। এরপর আর কোনো অনূর্ধ্ব-২০ ফরোয়ার্ডকে এভাবে সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়নি কোনো ব্রাজিলিয়ান কোচ। এবার রায়ান ভিতর ও তার চেয়ে মাত্র ১৩ দিনের বড় এনড্রিককে একসাথে দলে নিয়ে সেই ট্রেন্ড ভাঙলেন আনচেলত্তি। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম দুই অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারকে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করছে সেলেসাওরা।
২০০৬ সালের আগস্টে রিও ডি জেনিরোতে জন্ম নেওয়া রায়ানের ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা ব্রাজিলের আর দশটা সাধারণ ছেলের মতোই লড়াকু। ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব ভাস্কো দা গামার যুব একাডেমি থেকে তার উত্থান। বাঁ-পায়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের কারণে খুব দ্রুতই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর স্কাউটদের নজরে আসেন তিনি। সেখান থেকেই তার ঠিকানা হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বোর্নমাউথে।
চলতি মরশুমে প্রিমিয়ার লিগের কঠিন মঞ্চে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই মূলত কার্লো আনচেলত্তিকে বাধ্য করেছে জোয়াও পেদ্রোর মতো ফর্মে থাকা সিনিয়র ফরোয়ার্ডকে বাদ দিয়ে রায়ানের ওপর বাজি ধরতে।
সংবাদ সম্মেলনে যখন আনচেলত্তিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—অভিজ্ঞতার এই মহাবৈঠকে রায়ানের মতো একজন ১৯ বছরের তরুণকে কেন রাখা হলো? ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড কৌশলী উত্তর দিয়েছিলেন। আনচেলত্তির মতে, রায়ানের শারীরিক শক্তিমত্তা এবং উইং দিয়ে ভেতরে ঢুকে গোল করার যে সহজাত প্রবণতা, তা দলের আক্রমণভাগে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করবে।
তাছাড়া, নেইমারকে যখন কোচ ‘১০ নম্বর’ পজিশন বা ফলস নাইন হিসেবে খেলানোর কথা ভাবছেন, তখন উইংয়ে ভিনিসিয়াস, মার্তিনেল্লি বা রাফিনহাদের যোগ্য ব্যাক-আপ এবং গতিশীল ফুটবলার হিসেবে রায়ান ভিতর হতে পারেন ব্রাজিলের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।