ইবোলার প্রাদুর্ভাব : বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা

মানবসভ্যতা একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। মানুষ মহাকাশে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, জিন প্রযুক্তি মানুষের আয়ু বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে। কিন্তু এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির মধ্যেও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস বারবার মানবজাতিকে অসহায় করে তুলছে। কয়েক বছর আগে, করোনা ভাইরাসের মহামারী পুরো পৃথিবীকে কার্যত থামিয়ে দিয়েছিল, উন্নত রাষ্ট্রগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, বিশ্বঅর্থনীতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছিল, লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং কোটি কোটি মানুষ মানসিক ও সামাজিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছিল। কোভিড-১৯ আমাদের শিখিয়েছে সংক্রামক রোগ কোনো সীমান্ত মানে না, কোনো জাতি বা অর্থনৈতিক শক্তিকেও ছাড় দেয় না। সেই অভিজ্ঞতার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে, ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ইবোলা বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ভাইরাসঘটিত রোগ। এটি একটি প্রাণীবাহিত বা জুুনোটিক ডিজিজ (Zoonotic Disease)। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলভুক বাদুড় এই ভাইরাসের অন্যতম প্রাকৃতিক বাহক। বন্যপ্রাণী, বিশেষত সংক্রমিত বাদুড় বা বনাঞ্চলের প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ঘাম, বমি, লালা, মলমূত্র কিংবা শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ ঘটে।

স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবারের সদস্য কিংবা মৃতদেহ সৎকারে জড়িত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এ কারণেই ইবোলাকে বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ও ভয়াবহ ভাইরাসগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ইবোলায় মৃত্যুহার গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কোনো কোনো প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ জ্বরের মতো হওয়ায়, অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। প্রথমে জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া, তীব্র পানিশূন্যতা, কিডনি ও লিভারের জটিলতা এবং শরীরের ভেতর ও বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রোগী দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে কিছু পরীক্ষামূলক টিকা ও ওষুধ নিয়ে কাজ হলেও এখনো সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং সর্বজনীন কার্যকর চিকিৎসা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। আফ্রিকার দেশ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) গত কয়েক দশকে অন্তত ১৭ বার ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাসটির নতুন স্ট্রেইন ‘বুন্দিবুগিও’ বা ‘বান্দিবুগো’ নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন মানে নতুন আশঙ্কা। কারণ ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। কোভিড-১৯ এর সময় আমরা, ডেল্টা ও ওমিক্রনের মতো ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছি। ইবোলার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে, তা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইবোলা পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ (Public Health Emergency of International Concern) ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। অতীতে এই ধরনের জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল ২০০৯ সালে এইচ১এন১ সোয়াইন ফ্লু, ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা, ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস, ২০১৯ সালে কঙ্গোতে ইবোলা পুনঃপ্রাদুর্ভাব, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ এবং ২০২২ সালে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের সময়। প্রতিবারই দেখা গেছে, বিশ্ব যত দেরিতে সতর্ক হয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ তত বেড়েছে। ফলে ইবোলার বর্তমান পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে ভাইরাসঘটিত রোগের আঘাত নতুন নয়। আশির দশকে এইডস বা এইচআইভি ভাইরাস পুরো বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। এখনো লাখ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনযাপন করছে। ২০০৩ সালে SARS (Severe Acute Respiratory Syndrome) এবং পরে MERS (Middle East Respiratory Syndrome) বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, করোনা পরিবারের ভাইরাস কত ভয়ংকর হতে পারে। পরে কোভিড-১৯ সেই আশঙ্কাকে বাস্তবে রূপ দেয়।

একইভাবে শিশু মৃত্যুর রহস্যজনক কারণ হিসেবে SIDS (Sudden Infant Death Syndrome) নিয়েও ভাইরাস ও সংক্রমণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। এসব উদাহরণ দেখায়, ভাইরাস শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও গভীর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিও আমাদের সতর্ক করছে। দেশে সম্প্রতি হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বহু মানুষ টিকা না নেওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হামও একটি ভাইরাসঘটিত রোগ এবং অত্যন্ত সংক্রামক। অথচ কার্যকর টিকা বহু বছর ধরে সহজলভ্য থাকা সত্ত্বেও টিকাবিমুখতা, গুজব, ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, শুধু টিকা আবিষ্কার করলেই হবে না; জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও আস্থা তৈরি করাও জরুরি। অন্যথায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।  ইবোলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ পর্যাপ্ত ওষুধ বা সহজলভ্য টিকা নেই। ফলে প্রতিরোধই প্রধান ভরসা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং বলতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা বোঝায়। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলো এই পদ্ধতি সফলভাবে ব্যবহার করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছিল। ইবোলার মতো রোগের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। কারণ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন রোগীদের অবস্থান ও সংস্পর্শের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। অনেক উন্নত দেশ ইতিমধ্যে সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো, বিশেষ করে এই দেশকেও ধীরে ধীরে সেই পথে এগোতে হবে। একইসঙ্গে গবেষণাগারগুলোতে জিনোম সিকোয়েন্সিং বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ভাইরাসের নতুন রূপ দ্রুত শনাক্ত করা যায়। সংক্রমণ প্রতিরোধে সীমান্ত, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আগত যাত্রীদের পর্যবেক্ষণে রাখা, সন্দেহভাজন রোগীকে দ্রুত আলাদা করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালগুলোতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE), আইসোলেশন ইউনিট এবং জীবাণুনাশক ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বব্যাপী বহু চিকিৎসক ও নার্স সংক্রমিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবী এখন কার্যত একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একজন ব্যক্তি এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে আফ্রিকার কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভাইরাস খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। কোভিড-১৯ এর শুরুতে অনেক দেশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরে সেই অবহেলার মাশুল পুরো বিশ্বকে দিতে হয়েছে। তাই ইবোলার মতো ভাইরাসকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন উজাড়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মানুষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কারণে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ বাড়ছে। ফলে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে ভবিষ্যতের মহামারীর বড় অংশই আসবে জুুনোটিক রোগ থেকে। ইবোলা তার অন্যতম উদাহরণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক প্রাণী তাদের আবাসস্থল পরিবর্তন করছে, যা নতুন সংক্রমণের পথ  তৈরি করছে। আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাও ইবোলা বিস্তারের অন্যতম কারণ। আমি জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবে, কঙ্গোতে কাজ করেছি। প্রয়োজনে বহুবার উগান্ডা গিয়েছি। সেই কাজের অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, কঙ্গোসহ ইবোলা উপদ্রুত জনপদে পর্যাপ্ত হাসপাতাল, ল্যাব, আইসোলেশন ইউনিট ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অনেক সময় কুসংস্কার ও ভয়ের কারণে, মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে চায় না। আবার মৃতদেহ সৎকারের সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক অঞ্চলে এখনো মানুষ বিশ্বাস করে ইবোলা কোনো ভাইরাস নয়, বরং অভিশাপ বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাব। এসব ভুল ধারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শুধু আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে আঙুল তুললে চলবে না। উন্নত বিশ্বকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় দেখা গেছে, ধনী দেশগুলো নিজেদের টিকা মজুদ করলেও দরিদ্র দেশগুলো দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিল। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। গবেষণায় বিনিয়োগ, নতুন টিকা উদ্ভাবন, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ এবং উন্নত দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ভবিষ্যতের মহামারী মোকাবিলা করা কঠিন হবে। আমাদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। যদিও দেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব হয়নি, তবু ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, শ্রমবাজার ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে বিশ্বের যেকোনো সংক্রমণ দ্রুত বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রোগতত্ত্ব বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগাম প্রস্তুতি রাখতে হবে। বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং, হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ইউনিট গঠন, ল্যাব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ করাও অত্যন্ত জরুরি।

কোভিড-১৯ এর সময় ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। কেউ টিকার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে, কেউ রোগের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে অনেক মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রাণ হারিয়েছে। ইবোলার ক্ষেত্রেও যদি একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইবোলা শুধু আফ্রিকার সমস্যা নয়; এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা। অতীতের এইডস, SARS, MERS, কোভিড-১৯ ও অন্যান্য ভাইরাসঘটিত মহামারী আমাদের শিখিয়েছে যে, ভাইরাসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জনসচেতনতা, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাই পারে ভবিষ্যতের মহামারী ঠেকাতে। পৃথিবী যদি আগেভাগে সতর্ক না হয়, তবে আরেকটি বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিছক একটি আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসমস্যা নয়; এটি নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা।