হকারদের ফুটপাত বরাদ্দের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়ার বিধান সম্বলিত স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। জনস্বার্থে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়। স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান গত সোমবার জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন। এতে বলা হয়, হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়া সংবিধানের ২১ ও ৩৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৩৭ ধারার পরিপন্থি। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামান। এই আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফুটপাতের হকারদের জন্য ফুটপাত এবং রাস্তায় বরাদ্দ বিষয়ে চলতি বছর সরকার যে নীতিমালা করেছে, সেটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মান্য করতে হবে, শৃঙ্খলা মানতে হবে, জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। আর ৩৬ ধারায় নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তার উভয় পাশে ১০ মিটার জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। কিন্তু ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়ায় সেটার লঙ্ঘন হচ্ছে। জনগণের নির্বিঘেœ চলাচলের স্বাধীনতা নষ্ট এবং যানজট সৃষ্টি হওয়াটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গত ৬ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালায়’ ঢাকার জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় হকার বসার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে মিরপুর, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, সদরঘাট, বাইতুল মোকাররম মসজিদের মতো এলাকায় অফিস শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন বা ‘নাইট মার্কেট’ বসানো যাবে।