কারা ব্যবস্থার অজানা ইতিহাস ও সংস্কারের প্রত্যাশা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

কারাগার সংস্কার, গবেষণা কিংবা সাহিত্যকর্মে অনন্য হয়ে উঠতে পারে ‘কারাগারে অনুসন্ধান’। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের ২০০ বছরের কারাজীবনের নানা অজানা অধ্যায় নিয়ে মো. খোসবর আলী রচিত গবেষণা গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসবে আলোচকরা এ কথা বলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাতিঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা আশা প্রকাশ করে বলেন, কারাগার একদিন সত্যিই হয়ে উঠবে সংশোধনাগার।

অতিথিরা বলেন, নেদারল্যান্ডসে গত এক-দুই দশকে অপরাধের হার কমে যাওয়া, পুনর্বাসনমুখী বিচারব্যবস্থা এবং কারাদ- নীতির পরিবর্তনের কারণে অনেক কারাগার বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ২০টিরও বেশি কারাগার বন্ধ বা অন্য কাজে রূপান্তর করা হয়েছে। কিছু ভবন আশ্রয়কেন্দ্র, হোটেল বা অফিস হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের চিত্র একেবারে বিপরীত। ধারণক্ষমতার বেশি বন্দি রাখার পাশাপাশি কারাগার এখনো দুর্নীতি এবং নিপীড়নের বড় জায়গা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বইটিতে লৌহকপাটের ভেতরের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে, যা অনেকের কাছে এক অজানা অধ্যায়। তিনি বলেন, অনেক আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জার্মান সাহায্য সংস্থা জিআইজেডের সহায়তায় একবার কারাগার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সেখানে কাজে লাগিয়েছিল। চাকরিজীবনে হবিগঞ্জ, ফরিদপুর এবং ঢাকার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কারাগারের সত্যিকার সংস্কার হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক দৈনিক দেশ রূপান্তর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত দুই বছরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় সংস্কার। সরকার যদি সত্যিই কারাগার সংস্কার করতে চায়, তাহলে কারাগারে অনুসন্ধান বইটি সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, সাহিত্য অনুরাগী এবং সাংবাদিকদের জন্যও অনন্য হয়ে উঠতে পারে বইটি। তিনি বলেন, একজন কারা কর্মকর্তার এই উদ্যোগ ব্যতিক্রমী মাত্রা যোগ করেছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, একটি রাষ্ট্রের চেহারা ধরা পড়ে তার কারাগারগুলোয়। ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে এখনকার কারাগার সবখানেই একই চিত্র। সময় বদলেছে, কিন্তু কারাগারের ব্যবস্থা বদলায়নি। কারাগারের বড় একটি বিষয় দুর্নীতি; সেখানে পয়সা দিয়ে সুযোগ কেনা যায়। এই ব্যবস্থার বদল হওয়া উচিত।

দীর্ঘ ১৪ বছরের গবেষণার ফসল বইটি উল্লেখ করে লেখক মো. খোসবর আলী বলেন, আশা করি ভবিষ্যতে কারাগার হবে সত্যিকারের স্বস্তির জায়গা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চিকিৎসক এবং গবেষক ড. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর বলেন, জাপান ১৯১৯ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তাদের জেলবন্দিদের বীভৎস নির্যাতন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান নির্যাতনের নীতি থেকে সরে এসে জেলখানাকে সত্যিকারের সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলেছে।

সিরাজুল ইসলাম আবেদের সঞ্চালনায় প্রকাশনা উৎসবে অন্যদের মধ্যে অধিকারকর্মী ও লেখক নিশাত সুলতানা পূরবী এবং  সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

কারাগারে অনুসন্ধান বইটিতে ১৭৬৫ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে কারাগারের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। পূ-্র প্রকাশ প্রকাশিত ৬০০ পৃষ্ঠার এই বইটিকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত