একদিনে হামে দুই ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই কমবেশি মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিদিন হামের উপসর্গ নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাদের অনেকের হাম শনাক্ত হচ্ছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণে ঈদুল-আজহার ছুটিতে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্নসেবা নিশ্চিতে ১৮ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান এসব নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করে সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর ফলে ছুটি উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হবেন অনেক চিকিৎসক। কেননা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায়, জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, সিটি স্ক্যান, এমআরআই সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখতে বলা হয়েছে। তবে কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী বলেন, কাগজে কলমে ছুটি বাতিল করা হয়নি। তবে নির্দেশনা যেভাবে দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ছুটি উপভোগ করতে পারবেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক কম আছে, ধরেন চার-পাঁচজন আছে। তারা ছুটি ভোগ করতে পারবেন না। হাসপাতালে সেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি ঈদের ছুটিতেও কোনো ধরনের সেবা বিঘ্নিত হবে না।’
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ইউনিটপ্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলো জরুরি ল্যাব, এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবা চালু রাখতে হবে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড এবং হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সকাল বিকেল দুই বেলা রাউন্ড দেবেন।
ছুটি শুরুর আগে ছুটির সময়ের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্টোর কিপার অথবা ছুটির দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখতে হবে। ছুটির সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম চিঠি দিতে হবে। ছুটির সময়ে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা ছুটির সময় সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি-মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন এবং দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের বিষয়টির তদারকি করবেন এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার অধিক বন্ধ রাখা যাবে না। ২৬ মে থেকে ৩০ মে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।