অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিএবি নেতাদের বৈঠক

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় জাতীয় বাজেট সামনে রেখে দেশের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব, নিয়ন্ত্রণমূলক ও কাঠামোগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। গতকাল বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বিএবি নেতারা ব্যাংকিং শিল্পের বর্তমান গুরুতর সংকটগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ (এনপিএল), মূলধন পর্যাপ্ততায় চাপ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা এবং শাসন ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা হ্রাস।

ব্যাংকিং শিল্পের সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা খাতজুড়ে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি, এসএমই অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাকে সীমিত করেছে বলে বিএবি অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করে।

বৈঠকে বিএবি জোর দিয়ে বলেছে, ব্যাংকিং খাতের অর্থবহ পুনঃমূলধন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং যেসব মালিক ও গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করেছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় শেয়ার ও সম্পদ ধরে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিএবি দ্রুত আইনি কাঠামো পুনরুদ্ধার, অবৈধভাবে অর্জিত শেয়ার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার ও আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় উন্নত প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে।

এ সময় প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজল্যুশন কাঠামোর ধারা ১৮কে-র কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং জানায় যে বিতর্কিত সাবেক স্পনসর বা বড় ঋণখেলাপিদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার কোনো সুযোগ রাখা হলে তা আমানতকারীদের আস্থা, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।