রামিসার খুনিদের দ্রুত শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

হায়েনাটাই লানতের পাত্র হয়ে থাকবে

রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলশিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বুধবার ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে আবেঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমির লিখেছেন ‘প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনো বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ, ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন।’

‘তুমি চলে গেছ, তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকা-ের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর শাস্তি অতিদ্রুত দেখতে চাই’।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। তার পিতামাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চান জামায়াত সেক্রেটারি : রামিসা হত্যা মানবতার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রামিসা হত্যায় পুরো জাতি ব্যথিত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্যথিত নন। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেও আমাদের মন্ত্রীরা দায় চাপানোর রাজনীতি করেন।

শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা, সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াত ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 গতকাল বুধবার বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীদের যৌন লালসায় দেশের নারী-শিশুর জীবন হুমকির মুখোমুখি। বর্তমান সরকারের আমলে এত বেশি নারী-শিশু ধর্ষিতা হচ্ছে যে, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই সরকারের আমলে নারী-শিশু নিরাপদ নয়। এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত, এমনকি বিএনপি দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এসব অপরাধের নিয়ন্ত্রণে বা দমনে সরকারের কোনো অভিযান বা পদক্ষেপ নেই। ফলে সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

মহিলা বিভাগের উদ্বেগ : দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি শিশু, যে ছিল পরিবারের স্বপ্ন, সমাজের ভবিষ্যৎ, তাকে এভাবে হত্যা করা শুধু একটি পরিবারের নয়; সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং শিশু ও নারীর নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায় গত ৯ দিনে পাঁচ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে চারজনই ধর্ষণের শিকার।  ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।