রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদের বিরুদ্ধে একটি নিয়োগে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, যা গ্রহণ করেছেন উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম। অভিযোগে বলা হয়, রেজিস্ট্রার ব্যুরোর একজন পিয়ন নিয়োগে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে রেজিস্ট্রার বলছেন, এটি তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।

সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্যুরোর কম্পিউটার অপারেটর অফিসে একজন পিয়ন নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে। ওই নিয়োগের জন্য ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত হন।

উপাচার্য বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কয়দিন আগে তার অফিসে নাদিম হোসেন ভূইয়া নামে একজন পিয়ন নিয়োগ দেন। তিনি এখন ডেসপাচ শাখায় কাজ করেন। তার চাচা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার শাখাওয়াত। উনিসহ তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ করেন। তাই টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রার এ কাজ করেছেন। এ জন্য ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি। তদন্তপূর্বক রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল অভিযোগপত্রটি প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালামের কাছে জমা দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করে পরে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, অভিযোগটি নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। তবে আজ (২২ মে) থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন বন্ধ মিলিয়ে দীর্ঘ এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। আজ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তদন্ত কমিটি হবে কি না এ নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। যদিও প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এ নিয়োগ সিন্ডিকেটের নিয়ম মেনেই হয়েছে। প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক ও ভাইভা শেষে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডে ৫ জন সদস্য ছিলেন, কর্মচারী সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারি পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন। এককভাবে কারও পক্ষে এ নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না। আমি জানি না কে এবং কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগপত্র পেয়েছি। উপাচার্য স্যার ফিরেছেন, উনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এসেই এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জেনেছি। বিষয়টি প্রো-ভিসি প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবেন।