প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি; যথাসময়ে ভোটের সময় জানানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংসদ সচিব ও সংসদ সচিবালয় সচিবও ছিলেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।’
গুরুতর অসুস্থততার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সিইসি জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করে ইসি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ভোটের তারিখ ও স্থান থাকবে। তবে ভোটের স্থান হবে সংসদ কক্ষ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
