প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার চায় দিল্লি

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টরেট জেনারেল অব পাবলিক ইনফরমেশন (এডিজি পিআই) গতকাল শুক্রবার সকালে এক এক্স-পোস্টে বলেছে, তাদের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনকে যুক্ত করে দুই কর্মকর্তার ছবিসহ দেওয়া এই এক্স-পোস্টে অবশ্য বলা হয়নি তাদের এ সাক্ষাৎ কবে, কোথায় হয়েছে। তবে ছবি দুটির উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে গতকাল জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিল্লির সেনা সদরে এ সাক্ষাৎ হয়ে থাকতে পারে।      

ভারত সরকার গত ১৯ এপ্রিল দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। কূটনৈতিক চর্চা অনুযায়ী, নতুন হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব গ্রহণের জন্য দেশত্যাগের আগে নিজ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিয়ে থাকেন।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয়। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের শাসক দল বিজেপির প্রবীণ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (৭৬) হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি হাইকমিশনার হিসেবে প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন। প্রণয় ভার্মা বেলজিয়াম ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

আগামী জুনের মাঝামাঝি দীনেশ ত্রিবেদী নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ঢাকায় আসতে পারেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বিভিন্ন সময় ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একসময় কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগির বিষয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়টি ভারতের তৎকালীন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনায় এলে ত্রিবেদী এ চুক্তির বিরোধিতা করেন। তিনি পরে জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তৃণমূলের হয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ভালো বাংলা জানেন।