বাংলাদেশের মানুষের জন্য পোপ লিওর প্রার্থনার আশ্বাস

ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের মানুষের জন্য প্রার্থনার আশ্বাস দিয়েছেন। ভ্যাটিকানে বাংলাদেশসহ আটটি দেশের অনাবাসী রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণের পর দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ আশ^াস দেন।

হোলি সি-এ বাংলাদেশের অনাবাসী রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানসহ আট দেশের রাষ্ট্রদূতরা গত বৃহস্পতিবার ভ্যাটিকান সিটির অ্যাপোস্টিলিক প্যালেসে পোপের কাছে নিজ নিজ পরিচয়পত্র হস্তান্তর করেন। নাহিদা সোবহান সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে একই সঙ্গে হোলি সি-এ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

ভ্যাটিকান নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোপ লিও তার বক্তৃতায় বলেন, রাষ্ট্রদূতরা যেন সংলাপকে শক্তিশালী করে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে গভীর করে বিশে^ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। তিনি বলেন,  কোনো জাতি, সমাজ বা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিজেকে ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক বলে দাবি করতে পারে না, যদি তারা প্রাান্তিক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে শুধু ক্ষমতা বা সমৃদ্ধির নিরিখে নিজেদের সাফল্য পরিমাপ করে।

যুক্তরাষ্ট্র বংশোদ্ভূত পোপ লিও পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘যখন নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অস্ত্রের জোরে শান্তি খোঁজা হচ্ছে, তখন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব স্তরে এমন এক কূটনীতিতে ফিরে আসার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, যা সংলাপকে উৎসাহিত করে এবং ঐকমত্য খোঁজে।’

পরিচয়পত্র হস্তান্তরের আগে নাহিদা সোবহান ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত এসব বৈঠকে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বৈশি^ক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও মানবিক কার্যক্রমে, বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নাগরিকদের প্রতি ভ্যাটিকানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার, অভিবাসী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে ভ্যাটিকানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

জেনেভায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার এম জহিরুল কাইয়ুম ও কাউন্সিলর সবুজ আহমেদ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, রুয়ান্ডা, নামিবিয়া, মরিশাস, চাদ, সিয়েরা লিওনের রাষ্ট্রদূতরা পোপ লিওর কাছে নিজ নিজ পরিচয়পত্র হস্তান্তর করেন।