কেন্দ্রে এআই ব্যবহারসহ ভুল প্রশ্নপত্রের অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। মাঝে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫টি জেলায় (চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এই ৫ জেলার স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো গতকাল সোমবার থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্য ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় নকলের জন্য এআই ব্যবহারসহ বিভিন্ন স্থানে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

চট্টগ্রাম : দীর্ঘ বিরতির পর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক নারী পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল সঙ্গে রাখা এবং এআই থেকে সাহায্য নিয়ে উত্তর দেখে লেখার দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী বাকলিয়া কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেনুয়ারা বেগম জানান, পরীক্ষার শেষের দিকে বাকলিয়া কলজের মানবিক বিভাগের এক নারী পরীক্ষার্থী মোবাইলসহ ধরা পড়ে। সে মোবাইল থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল করছিল। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গতকাল এইচএসসির পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম জেলাতেই অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২ জন। বোর্ডে মোট অনুপস্থিতির হার প্রায় ২.৩৫ শতাংশ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীরকে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুরে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার ইতিহাস প্রথম পত্রের পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। সেই প্রশ্নেই তারা সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা দেন। পরে ভুল ধরা পড়লে কেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করে। এরপর অতিরিক্ত সময় দিয়ে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়। আরও জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়িত্ব অবহেলার সত্যতা পাওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দিনাজপুর : এদিকে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গতকাল এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভুলবশত একটি কক্ষে থাকা কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্রের’ প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয় এবং পাশের কেন্দ্র থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের হল সুপার আবুল কাশেম জানান, প্রশ্নপত্রের খামের ওপর ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র’ লেখা থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সেটি খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। প্রশ্নপত্র দেওয়ার পরপরই পরীক্ষার্থীরা সেটি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বলে বুঝতে পারেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয়।

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন, নির্ধারিত দিনে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা থাকলেও ভুলবশত একটি কক্ষে থাকা কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা জানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয়। ঘটনার পর সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কুশল চন্দ্র রায়, হলসুপার আবুল কাশেম এবং ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদা ফারজানাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত