বাংলাদেশ গানের দেশ। তবে এমন কোনো দেশ প্রকৃতপক্ষে নেই, যেখানে গান নেই! এমন কোনো জনগোষ্ঠী হয় না, যারা সংগীতশূন্য।
সংস্কৃতিগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর গান ভাবে, সুরে, প্রকৃতিতে ভিন্ন। যেহেতু সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রভাবশালী উপাদান গান, তাই গানের ভিন্নতা দ্বারা জাতির পরিচয় স্বাতন্ত্র্য নির্ণয় করা যায়। এই ক্ষেত্রে বাংলার গানে উল্লেখ করার মতো বৈচিত্র্য স্পষ্ট। একালের সংগীত নৃতাত্ত্বিক তিমতি রাইস প্রমাণ করেছেন, ‘মানুষ মাত্রই সংগীতময়’। প্রত্যেক মানুষের মনে গান গুন গুন করে। ৬০৪ সালে জাপানের বৌদ্ধ রাজপুত্র প্রিন্স শৌতকু প্রবর্তিত কেম্পো বা ‘সতেরো অনুচ্ছেদের সংবিধান’-এ একই জনসমাজে বিরাজিত বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব মন আছে এবং প্রত্যেক মনের নিজস্ব প্রবণতা রয়েছে।’
অবশ্য ‘বিশ্ব সংগীত’ ধারণার ছাঁচে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের নগরীয় সংগীত এই আলাপের লক্ষ্য নয়। বাংলার সেই সংগীতের জয়গানই গাইছি যা কেবলই বাংলার বলে চিহ্নিত করা যায়; যা উঠে আসে জনগণের সামষ্টিক চেতনার গভীর থেকে পরম্পরায় বাহিত হয়ে। বাংলাদেশের সংগীত ঐতিহ্যের কিংবদন্তি গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া দেখাচ্ছেন যে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের আগেই বাংলায় লোকায়ত সংগীত ঐতিহ্য চর্চার প্রামাণ্য নিশানা পাওয়া যায়। তিনি বিশেষ করে সারঙ্গ দেবের সংগীতরত্নাকর ও সংগীতসুধাকর গ্রন্থ উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধনে সংগীত, নৃত্য, নাট্যের সমৃদ্ধ চর্চা ছিল। রামচরিত-এর বর্ণনায় পাওয়া যায় যে উত্তরবঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় তাদের বিপণিগৃহে সংগীতায়োজন করতেন। শিশুরা গৃহস্থের উঠানে সংগীত পরিবেশন করতেন। এমনকি গৃহস্থের পিঞ্জরাবদ্ধ পাখিরাও মানুষের বাণী ও সুর অনুসরণ করে সে গানগুলো গাইতেন। এই আমাদের সাংগীতিক ঐতিহ্য। বাংলার পাহাড়পুর তথা এ অঞ্চলের বিলুপ্ত জ্ঞানকেন্দ্র সোমপুর বিহারে প্রাচীন বাংলার চর্যাগীতির সাধক কবি ও শিল্পী কাহ্নু পা ও বিরুপার বসবাস ছিল। সেখানে সামাজিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রসারের মাধ্যম হিসেবে জনপরিসরে সংগীতের চর্চা হতো। সেখানে আজও অক্ষত থাকা টেরাকোটাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে সেখানে দুই হাজার বছর আগে কী পদ্ধতিতে সংগীত পরিবেশনা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো।’ এক চর্যাপদে আছে, ‘নাচন্তি বাজিল গান্তি দেবি বুদ্ধ নাটক বিসমা হই’। আরেক পদে আছে, ‘একশ পদমা চৌষট্টি পাখরি তুহি চড়ি নাচা ডোম্বি বাপরি’। এই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা অনুসন্ধান করতে গিয়ে ড. জাকারিয়া বাংলাদেশে সহস্রাধিক ঐতিহ্যবাহী সংগীত আঙ্গিক খুঁজে পেয়েছেন। আমরা হয়তো তার কয়েকটির মাত্র খোঁজ রাখি।
বাংলাদেশের মানুষ সেসব সংগীত ধারাকে পল্লীগীতি বলে প্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এসব বেশিরভাগ সংগীত ধারা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সমাজকে সংহত ও সম্প্রীতিময় রাখত। এ রচনার ক্ষুদ্র পরিসরে ভিন্ন ভিন্ন সংগীত ধারার বর্ণনায় না গিয়ে কেবল একটি কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে এই ছোট্ট ভূখণ্ডের ভূ-প্রকৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের সাপেক্ষে একই ধারার গানেরও সুর ও পরিবেশনা বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। যেমন মনসা মঙ্গলের একই টেক্সট কোথাও মনসার পালা, কোথাও বেহুলার ভাসান, কোথাও বিষহরার গান, কোথাও চাঁদ সদাগরের পালা ইত্যাদি নামে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে পরিবেশিত হয় আজও। বিষহরা সম্পর্কে ছোট্ট নোক্তা দেওয়া দরকার। এ জন্য যে উত্তরবঙ্গে এই সংগীত আঙ্গিত পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসার নিমিত্তে এক টানা কয়েক দিনব্যাপী পরিবেশিত হতে রংপুর শহরের এক রোগীর বাড়িতে আমি নিজে দেখছি; সেখানে আমার সঙ্গে কবি ফিরোজ এহতেশামও ছিলেন। এই উল্লেখ এ জন্যই যে, গান এখানে নিছক বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, অথবা কেবলই সামাজিক শিক্ষার হাতিয়ার ছিল না, ছিল এমনকি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষারও উপাদান। সাপুরেদের গানের কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে রাখলাম। ছোটবেলায় আমার রংপুরের পীরগাছার পশ্চিমদেবু-আমডারা গ্রামে শুনতাম, ‘গান শোনে জ্ঞানী লোক’! তারা এসব কথা বলার সময় বিশেষভাবে বাউল-ফকিরের গান এবং যাত্রাপালার ‘বিবেক’-এর গানের কথা বলতেন। হায়, আজ সেই যাত্রাপালা এদেশে বিলুপ্তির পথে; তাও আবার অশ্লীলতার অজুহাতে!
যদিও এই অজুহাতওয়ালারা শিশু ধর্ষণ ও হত্যা থামাতে পারে না, পারে না মাদ্রাসাগুলোতে ঘটতে থাকা ক্রমিক বলৎকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে! ঘুষ, দুর্নীতি, খুন, মাজারে হামলাই শুধু নয়; আজকের বাংলাদেশে একদল মানুষ পয়দা হয়েছে যারা গান নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে চায়, বাউলের ওপর সংগঠিত আক্রমণ করে, হত্যা করে—এমনকি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কেবল গান গাওয়ার মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ পেয়ে আমাদের সামষ্টিক আত্মপরিচয়ের ধারক, বাহক, চর্চাকারীদের জেলে পুরে রাখে, অপরাধীদের ছাড় দেয়।
সমাজ যখন গানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখনই আমাদের এই রাষ্ট্র ও সমাজ মুখোমুখি হচ্ছে ভয়াবহ সব দৃশ্য, ঘটনা ও সংবাদের। নারীবিদ্বেষ বাড়ছে গভীরভাবে, অথচ বাংলার গানে নারী মা হিসেবে পূজিত। প্রতিদিন শিশুহত্যা ও নির্যাতনের খবরে রাষ্ট্র ভয়ংকর নির্বিকার, অথচ বাংলার লোকায়ত গানে শিশুরা ফেরেস্তার প্রতীক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই দেখা যায় কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি ঘৃণা, কটূক্তি, অপমান; মেয়েদের পোশাক, চলাফেরা, গান গাওয়া, অভিনয় করা, টিপ পরা—সবকিছু নিয়েই বাজে কথার ছড়াছড়ি। ধর্মীয় ওয়াজ-নছিহতেও এ ধরনের ঘৃণা প্রকাশ্যে ছড়ানো হয়। এমনকি একজন নারী জনসমক্ষে কথা বললেই তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এসব আক্রমণ শুধু ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; প্রায়ই রূপ নিচ্ছে বাস্তব সহিংসতায়। কেন এমন হচ্ছে। কারণ মানুষ লোকায়ত গান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গান তো মনকে শান্ত করে, শরীরকেও সুস্থ রাখে। গানে নিরাময়যোগ্যতা নিয়ে পৃথিবীতে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। আর কিছু কি আছে এতটা শক্তিশালী! না, নেই। সেই গান আইনি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের সীমানায় বসবাস করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিচ্ছে কতিপয় অপরাধপ্রবণ ভিন্নতা-বিদ্বেষী পশু! সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের আবহে থাকা বিভিন্ন মানুষের জীবনযাপন করতে হচ্ছে হুমকি ঘাড়ে নিয়ে। রাষ্ট্র সংগীতের প্রতি সহিংস অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার বদলে বেছে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা গানের পাখিদের নিরাপদ হেফাজতে নেওয়ার নামে বন্দি করার কৌশল। চলছে কেবলই বাংলার গান হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা। কোথাও মাজার নিয়ে আপত্তি, কোথাও কবিগান নিয়ে আপত্তি, কোথাও শিল্পীর পোশাক কিংবা খাদ্যাভ্যাস টার্গেট। সমাজের একটি অংশ যেন ধীরে ধীরে মানুষকে গানশূন্য করতে চাইছে। অথচ এদের কয়েক পুরুষ বলে এসেছে, ‘যে গান শোনে না সে মানুষ খুন করতে পারে’। কিন্তু এরা সেসব ভুলে গিয়ে খুনের উৎসবে মেতে উঠেছে, রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভেতরে বসে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো বড় সাংস্কৃতিক সংকটের লক্ষণ, মনুষ্যসৃষ্ট গান বিধ্বংসী বিপর্যয়। অথচ সংগীতময় বাংলাদেশের জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকায় বহু প্রতিষ্ঠান এদেশে চলে—দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে শিল্পকলা একাডেমি, জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, সংগীত মহাবিদ্যালয় এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও আছে সংগীত শিক্ষার। এসব প্রতিষ্ঠান বড় অদ্ভুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইম রানা তার সম্প্রতি প্রকাশিত সংগীতালোকের পথে গ্রন্থে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে সংগীতশিক্ষা কার্যক্রম মূলত বিভাজিত হয়ে আছে পাঁচটি শাখায়, তা হলো (ক) লোক, (খ) রবীন্দ্র, (গ) নজরুল, (ঘ) উচ্চাঙ্গ এবং (ঙ) বাদ্য।’ এদেশে এখনো জীবন্ত সহস্রাধিক লোকায়ত আঙ্গিকের গানকে বাংলাদেশ শিক্ষা কার্যক্রমে কেবল লোকসংগীত শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে জাতির প্রধান পরিচয় চিহ্নকে গ্রামীণ, প্রান্তিক, পল্লীর বলে পরিচিত করানো হয়। এখানে ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি সমান! লালন, হাসন, ভবা পাগলা, মনোমোহন, দুরবিন শাহ যেন একই! পালাগান, কবিগান শিক্ষার প্রয়োজনই এখানে অস্বীকার করা হয়। দেশি গানের বৈচিত্র্য এরা এড়িয়ে চলতে চায়।
তবে প্রকৃতপক্ষে বাংলার আনাচে কানাচে আজও আমরা ভিন্ন ছবি দেখি। মানুষ যুগের পর যুগ ধরে মিলেমিশে বৈষ্ণব পদাবলি, বাউল গান, জারি-সারি, কীর্তন, মারফতি, মরমি, শাক্তধারা, সুফি সংগীত লালন-পালন, বহন করে চলেছে। এই ভূখন্ডে মসজিদের পাশেই মাজার আছে। একই অঙ্গনে এখনো বিরাজ করছে মসজিদ ও মন্দির। দেয়ালের একপাশে কীর্তন, আরেক পাশে ইসলামি গজল। শুনিনি কখনো যে লালমনিরহাট শহরের কালিবাড়ি মোড়ে একই দেয়ালের একদিকে মসজিদ আরেক দিকে থাকা মন্দিরের আজান ও শঙ্খে কখনো কাজিয়া-ফ্যাসাদ হয়েছে! মাজারের পাশে বৈশাখী মেলার আয়োজন বাংলার বাস্তবতা। এটাই বাংলার স্বাভাবিক দৃশ্য। বাংলার মানুষ ধর্ম পালন করেছে, আবার একসঙ্গে গান গেয়েছে। এখানকার সংস্কৃতি কখনো একরঙা ছিল না। একরঙা হওয়ার দরকারও নেই। বহুত্বই তো আমাদের পরিচয়।
আহমদ ছফা বাঙালির আত্মপরিচয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন। তিনি মনে করতেন, বাঙালির সংস্কৃতির মূল শক্তি হলো এর মানবিকতা ও মুক্তচিন্তা। তিনি বারবার সতর্ক করেছেন আত্মবিচ্ছিন্নতার বিপদ সম্পর্কে। বাংলার কৃষিজীবনে নারী সমান অংশীদার। অথচ সংসার, মাঠ, উৎসব, গান সব জায়গাতেই নারীকে অদৃশ্য করার হুজুগ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। লোকসংস্কৃতি গবেষক মযহারুল ইসলাম দেখিয়েছেন, বাংলার লোকায়ত গানে নানা ধর্ম, নানা বিশ্বাস ও নানা সামাজিক অভিজ্ঞতা একসঙ্গে মিশে আছে। আমেরিকান লোকসংস্কৃতি গবেষক অ্যালেন ডান্ডেস জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সংগীতকে গভীর মানসিক অবস্থা হিসেবে দেখেছেন। একটি সমাজের ভয়, আশা, সংকট ও স্বপ্ন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিগত মূর্ত ও বিমূর্ত উপাদানের মধ্যে প্রকাশ পায়। আমাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রভাবশালী উপাদান গান। ঐতিহ্য সঞ্জাত গানকে সন্দেহ করা মানে নিজের জন্মবৃত্তান্ত কলঙ্কিত করা। তিমথি রাইস সংগীতকে মানুষের সামাজিক স্মৃতি হিসেবে দেখেছেন। একটি জাতির ইতিহাস, কষ্ট, আনন্দ ও অভিজ্ঞতা তার নিজস্ব সংগীতের মধ্যে বেঁচে থাকে। বাংলার ক্ষেত্রেও তা সত্য। আমাদের লোকায়ত গান এ অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, বিবর্তন ও চিন্তার পরম্পরাগত দলিল। ফরাসি সাংস্কৃতিক ভূগোলবিদ জোয়েল বনেমেসোঁ দেখিয়েছেন, সংগীত মানুষের মাটি ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। মানুষ তার উৎসব, গান, ভাষা ও স্মৃতির মাধ্যমে জন্ম-ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু আমরা বিস্মৃতি ভালোবাসতে শিখেছি। এসব বিচেনাতেই বাঙালিকে বিস্মৃতপ্রবণ জাতি বলেন অনেক পন্ডিতেরাই।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। শিল্পী বা সাংস্কৃতিককর্মীদের হুমকি দেওয়া হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মব তৈরি করে হামলা বা ভয় দেখানোর ঘটনায় প্রতিকারের একটি উদাহরণও নেই। এতে একটি ভুল বার্তা যায় সমাজে গানের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো যেন অপরাধ নয়। তবে আইনি পদক্ষেপই সব নয়। স্কুলে সংগীত, নাটক, সাহিত্য, বিতর্ক ও শিল্পচর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুরা যাতে উপলব্ধি করে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানবোধ থাকতে হয়। উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু বা বড় ভবন নয়। এগুলো বাহ্যিক। অন্তর্গত উন্নয়ন ছাড়া বাহ্যিক উন্নয়ন অর্থহীন। সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত উন্নয়নই টিকে থাকতে পারে প্রজন্মান্তরে। একটি দৃঢ় কাঠামোর সাঁকোর মেয়াদ একশ বছর হতে পারে। অন্তর্গত উন্নয়নের মেয়াদ অনন্ত। উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হবে এমন সমাজ, যেখানে কেউ ভয় পায় না। আনন্দে গান গাইতে পারে। বাংলার গান আসলে সেই সমাজের কথাই বলে। অভেদের ও মিলনের কথা বলে। মানুষকে সবার ওপরে তুলে ধরার এবং ভিন্নতাকে স্বীকার করার ও শত্রুতা বিনাশ করার কথা বলে। আমরা কি আমাদের বাংলার গান সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করব না? নিশ্চয় আমাদের লক্ষ্য মানবিক বাংলা।
লেখক : গল্পকার, অনুবাদক ও ফোকলোর বিশ্লেষক