খুলনার ডুমুরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩০ বিঘা সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী ওশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত চৌধুরী ওশিয়ার রহমান ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের আরশনগর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক সভাপতি চৌধুরী হামিদুর রহমানের ছোট ভাই। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি জমি দখলে রেখে সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বয়ারসিং মৌজার আমতলা, তালতলা ও শালতা নদীসংলগ্ন পাউবোর ৩০ বিঘা সরকারি জমি রয়েছে। সেটি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছেন ওশিয়ার রহমান। সরকারি জমি দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ওই ঘেরের পানি নিয়ন্ত্রণে ওয়াপদার রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করায় সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রয়াত নেতা চৌধুরী হামিদুর রহমান প্রথমে ওই সরকারি জমি দখলে নেন। তার মৃত্যুর পর একইভাবে তার পরিবারের সদস্যরা দখল অব্যাহত রেখেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, ঘেরের পানির চাপের কারণে ওয়াপদার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আগামী বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চৌধুরী ওশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার ঘেরের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু জমি রয়েছে। তবে কতটুকু আছে, তা আমি জানি না। আরএস রেকর্ডে আমাদের জমি কমে যাওয়ায় আমরা আদালতে মামলা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি নই, স্বপন সরদার, বিষ্ণু মাস্টার, গোলক মণ্ডলসহ আরও অনেকের দখলে সরকারি জমি রয়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে খর্নিয়া পর্যন্ত অনেক জমি অবৈধ দখলে আছে। তদন্ত হলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।’ এ বিষয়ে পাউবো খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে তদন্ত করা হবে। সরকারি জমি চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’