কক্সবাজার জেলা জজ ও দায়রা আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে যাওয়া বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে ওই নেতার চাচাত ভাই মাঈন উদ্দিন (৩৭) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
যাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে তার নাম লিয়াকত আলী। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যও। এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিকু নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। জিকু কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়ার আব্দুল গনির ছেলে।
আদালতের লোকজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, লিয়াকত ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাসহ, মারামারি ও দাঙ্গাহাঙ্গামার একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গতকাল ১ নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে লিয়াকত ও তার ১৬ সঙ্গীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এদিন আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবী লিয়াকতসহ ৯ জন আসামির পক্ষে হাজিরা দাখিল করেছেন আদালতে। ওই মামলায় হাজিরা দিতেই লিয়াকত আদালতে যান।
লিয়াকতসহ তার লোকজন জজ আদালত ভবনের দক্ষিণ গেইটে উপস্থিত হন। তখন হঠাৎ গুলির আওয়াজ শোনা যায়। মুহূর্তে লোকজন চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। আদালতের কার্যক্রমও সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। আদালতের পাশেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা জজের বাসভবন ও জেলা পরিষদ ভবন।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি লিয়াকতকে গুলি করতে এসেছিল সন্ত্রাসীরা। লিয়াকতের লোকজন প্রথমে জিকুকে আমাদের হাতে হস্তান্তর করে। পরে তারা বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করে বলে জানায়।