উত্তরায় শিশুদের মাঝে জামায়াতের পোশাক বিতরণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাই শিশুদের মেধা, মনন ও প্রতিভা বিকাশ এবং তাদের জীবন আনন্দঘন ও উচ্ছল করতে জামায়াতে ইসলামী সম্ভব সবকিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একটি শিশুবান্ধব নগরী প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে খিলক্ষেত থানা পশ্চিম জামায়াত আয়োজিত পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রান্তিক শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত থানা আমির সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। উপস্থিত ছিলেন খিলক্ষেত পশ্চিম থানার সাবেক আমির হোসাইন আহম্মেদ, জামায়াত নেতা মো. জাকির হোসেন ভূইয়া, জামায়াত মনোনীত ১৭ নং ওয়ার্ড, কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন দর্জি প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশ ও জাতির উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শিশুদের সময়োপযোগী ও যোগ্যতর হিসাবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। মূলত, যুব সমাজের হাত ধরেই জাতীয় জীবনে এসেছে বড় বড় অর্জন ও সাফল্য। ‘২৪-এর জুলাই বিপ্লবে সম্মুখ সারিতে থেকে যুব সমাজই বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। এ যুব সমাজেরই বীজতলা হচ্ছে আজকের শিশুরা। তাই আগামী দিনের নেতৃত্বের শূণ্যতা দূর করার জন্য শিশুদেরই যোগ্যতর নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য দরকার শিশুবান্ধব রাষ্ট্র ও সরকার। নগরবাসী জামায়াতকে ভোট দিয়ে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব দিলে ডিএনসিসিকে শিশুবান্ধব আদর্শ নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে। তাদের খেলাধূলা, শরীর চর্চা ও সুস্থ্যধারার বিনোদনের ব্যবস্থা করবে নগর প্রশাসন। তিনি সে স্বপ্নের শিশুবান্ধব নগরী প্রতিষ্ঠায় স্ব স্ব অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

তিনি বলেন, দেশে শিশুদের জন্য শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি বরং শিশুশ্রমের মাধ্যমে শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দারিদ্রতার কারণে শিশুদের বড় একটা অংশ বিদ্যালয়েই পা রাখতে পারছে না। এমনকি অনেকেই প্রাথমিকে বা মাঝ পথেই ঝরে পড়ছে। পথশিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় কোন পরিকল্পনা না থাকায় তারা বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়বে। তাই এসব অনিশ্চয়তা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকে তাদের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সবার আগে শিশুদের জন্য শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। তাহলেই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ উজ্জল হবে। তিনি শিশুদের কল্যাণে  কাজ করতে সরকার, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন প্রীতি ও দাতা সংস্থা সহ সমাজের সক্ষম মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

আলোচনা সভা শেষে ১ হাজার শিশুর মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ করা হয়।