ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা কথার কথা সদরঘাটে

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার তাড়া। তবে গতকাল সোমবার দুপুরে বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে শুরুতে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কিছুটা কম দেখা গেলেও বিকেলে সেই চিত্র বদলে যায়। শুরু হয় ব্যাপক হুড়োহুড়ি। সদরঘাটে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীর চাপ সামলাতে বাড়তি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা এবং নিরাপত্তা জোরদারসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় ১০ শতাংশ কম ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ নেই। লঞ্চ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ১০ শতাংশ কম ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার লঞ্চে যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে যাবে বলে আশাবাদী লঞ্চ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে ঈদুল আজহা সামনে রেখে শ্রমিকদের যাতায়াত সহজ করতে দেশের সব রুটে জাহাজ ও যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকতা এবং লঞ্চ মালিক ও সুপারভাইজাররা  জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকারে পক্ষ থেকে নির্ধারিত ভাড়া থেকে ১০ শতাংশ কম নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে কম মূল্যে কেবিন ভাড়া দিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা। একাধিক লঞ্চ মালিক জানান, বরিশালগামী লঞ্চে একটি সিঙ্গেল কেবিনের সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৭১৬ টাকা হলেও তারা নিচ্ছেন ১ হাজার ২০০ টাকা। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। 

এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে পন্টুনের আশপাশে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবার লঞ্চের পেছন দিক দিয়ে নৌকায় যাত্রী ওঠানামাও বন্ধ রাখবে নৌ পুলিশ। নৌ পন্টুনের সামনে যাতে কোনো নৌকা ঢুকতে না পারে, সেজন্য ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুন পর্যন্ত নদীপথে চারটি টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে মানুষ ছুটে চলেছে বাড়ির উদ্দেশে। তবে দুপুর ১২টা থেকে ২ ঘণ্টার বৃষ্টির কারণে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। ঈদযাত্রীবাহী লঞ্চ চলাকালীন বুড়িগঙ্গায় ছোট নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও এর তোয়াক্কা করছে না কেউ। এ ছাড়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ শতাংশ ভাড়া কম নেওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করে চলছেন অনেক লঞ্চ মালিক। আবার ভাড়া কমের বিষয়টি যাত্রীদের অনেকে জানেনই না।

‘ময়ূর’ লঞ্চের সুপারভাইজার রিপন বলেন, এবার যাত্রীর চাপ খুব কম। বৃষ্টির কারণে তেমন ভিড় হচ্ছে না। ১০ শতাংশ ভাড়া কম রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কিছুই হচ্ছে না। এইটা তো গত ঈদে বলা হলেও ভাড়া যা আছে আমরা তাই নিচ্ছি।

ঢাকা থেকে বরিশাল যাবেন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছি, ভালো লাগছে। তবে এইবার ভিড় তেমন নেই, লঞ্চগুলো ফাঁকাই। রোজার ঈদে অনেক ভিড় হয়, কোরবানি ঈদে কমই বাড়িতে যায় মানুষ।

‘সুরভি’ ৮ লঞ্চের পরিচালক মিজান বলেন, এইবার যাত্রীদের চাপ অনেক কম। ভোলার উদ্দেশে যাওয়ার লঞ্চের টিকিটের মূল্য ৩০০ টাকা, কেবিন ভাড়া ২ হাজার ৭০০ টাকা। আমরা ২ হাজার ৬০০ করে  নিচ্ছি। আমরা ভাড়া কমই নিচ্ছি। সরকার যখন ১০ শতাংশ ভাড়া কমিয়েছে, তখন তেলের দাম কম ছিল।

বরিশালের যাত্রী সাদিয়া বলেন, বাড়ি যাচ্ছি সবার সাথে ঈদ করতে। একসঙ্গে থাকব, এটাই আনন্দ। বৃষ্টিতে সমস্যা নেই, কিন্তু সবার সঙ্গে দেখা হবে এটাই ঈদ।

সদরঘাট এলাকায় হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, ফ্রি কুলি সেবা চালু, ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। বিআইডাব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, দুর্ঘটনামুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত ঈদে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছিল। এর জন্যই এবার কোনো নৌকা চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নির্ধারিত ভাড়ার থেকে ১০ শতাংশ কম ভাড়া গ্রহণ করা হবে যাত্রীদের কাছ থেকে। মোবারক হোসেন মজুমদার আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে যাত্রী কিছুটা কমলেও ঈদ সামনে রেখে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সময়ে সদরঘাট দিয়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করলেও এবার ঈদযাত্রার জন্য ১৩০টির বেশি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে। এতে করে ৭ লাখ মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করছে বলে জানান তিনি।