ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর কক্ষে প্রবেশ করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে ছাত্রদলের চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গত ২৪ মে রবিবার সন্ধ্যায় হলের দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে ওই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র।
অন্যদিকে, অভিযুক্তরা হলেন ২০২০-২১ সেশনের ফ্রেনশ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ২০২১-২২ সেশনের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকার এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী সাগর। সাগর বাদে বাকিদের বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।
গতকাল সোমবার ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী তামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অনুমোদিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকারকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক সুভন হালদারকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে একজন সহকারী প্রক্টর, হলের দুজন আবাসিক শিক্ষক, হল সংসদের ভিপি-জিএসকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব তদন্ত কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভয় কুমার বলেন, পায়ের সমস্যার কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ কক্ষে থাকলেও একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। অভয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদারের চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় পায়ের সমস্যার কারণে তিনি পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় চন্দন নামের এক শিক্ষার্থী তাকে পা নিচে নামিয়ে বসতে বলেন। অভয় জানান, জায়গা ফাঁকা থাকায় তিনি পরে পা নামিয়ে নেন এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন।
তবে পরে আনন্দ বাজার থেকে কক্ষে ফেরার পর চন্দন, ঝলক দাস, রিপন ও সৌরভ নামের চারজন তার কক্ষে ঢুকে শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে থাপ্পড় মারা এবং ভবিষ্যতে চায়ের দোকান বা হলের নিচে দেখা গেলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন অভয়।
এ বিষয়ে জগন্নাথ হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেবাশীষ পাল বলেন, গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যার পরই শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে খোঁজ নেওয়া হয়। এরপর ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সেহেতু কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটিতে হল সংসদের ভিপি-জিএসকে যুক্ত করা হয়েছে।
ডিজাবিলিটি রাইটস বাংলাদেশ-এর নিন্দা : এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিজাবিলিটি রাইটস বাংলাদেশ (ডিআরবি)। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিআরবি জানায়, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো শুধু অমানবিক নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক পরিবেশ, সহনশীলতা ও শিক্ষার্থী নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অপমান বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এ সময় সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারসহ চারটি দাবি জানায়।