বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট। কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বর্ষণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বৃষ্টিপাতে কয়েকটি হাটে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কাদা আর জমে থাকা পানিতে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে থাকা ক্রেতাদের গরুর জন্য স্থাপন করা তাঁবুতে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। আর বিক্রেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন গরু সরিয়ে বাঁধতে ও তাঁবুর ওপর জমে থাকা পানি সরাতে। কেউ আবার বৃষ্টির পানিতেই গরু গোসল করাতে নেমে পড়েন। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে হাটগুলোর কাদাপানিতে পশু রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। পশু চিকিৎসকরা জানান, সাময়িক বৃষ্টিতে গবাদি পশুরু সমস্যা হবে না। বরং চরম গরমে পশুরু জন্য স্বস্তি হবে। অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তবে, হাট এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। এ জন্য হাট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অস্থায়ী তাঁবুর নিচে থাকা অধিকাংশ গবাদি পশু বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে। তবে ব্যাপারীরা পশুর সুরক্ষায় তাবু ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বৃষ্টি থামার পরেও হাটের বেশিরভাগ জায়গায় জলাবদ্ধাতা দেখা গেছে। জমে থাকা কাদাপানিতে পশু রক্ষণাবেক্ষণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যাপারীরা। তাদের আশঙ্কা, কাদা-পানিতে পশুর শরীর ময়লা হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি ভেজা পরিবেশে পশু অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে।
বৃষ্টিতে ঠান্ডায় গরুর শারীরিক কোনো সমস্যা হবে কি না এ বিষয়ে কথা হয় আমুলিয়া হাটে পশু চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসক হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, বৃষ্টি বা ঠান্ডায় গরুর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং এই জাতের গরুর জন্য ঠান্ডা ভালো। এতে গরু শান্ত থাকে, অসুস্থ হওয়ার ঝুকিও কমে যায়।
তিনি বলেন, গরমে অনেক সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। ভ্রমণের সময় প্রচন্ড গরম ও ক্লান্তিতে গবাদি পশু অসুস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে হাটে আনার পর প্রথমে গরুকে ছায়ায় রাখা জরুরি। এরপর ভালো করে গোসল করানো প্রয়োজন। বৃষ্টি হওয়াতে গরুর এ ঝুঁকিটা কমে গেছে। অনেক বেশি ভিজলে গরুর সর্বোচ্চ ঠান্ডা-জ্বর আসতে পারে। প্রাথমিক কিছু ওষুধেই এটা সেরে যাবে।’
হাটে পশুদের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ হাটে এখন পর্যন্ত কোনো পশু অসুস্থ হয়ে মারা যায়নি। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো সমস্যাও হয়নি। কিছু গরুর মালিক সমস্যা নিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে গেছে।’
এদিকে হাটে পশুর দাম নিয়ে অসন্তোষ ক্রেতারা। এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন কয়েকজন। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে ডেমরা থেকে আমুলিয়া হাটে গরু কিনতে এসেছেন আবুল কাশেম। গরুর দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, অনেক গরু আছে, দেখে পছন্দও হয়েছে। কিন্তু দামদর করতে গিয়ে আর কেনা হচ্ছে না। দাম এখনো অনেক বেশি চাচ্ছেন ব্যাপারীরা। প্রতি গরুতে ৫০ থেকে লাখ টাকা বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে।
অন্যদিকে খামারিরা অভিযোগ করছেন, খাবারের দাম বৃদ্ধি ও ঢাকার বাইরে থেকে গরু নিয়ে আসতে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে হাটে গরু নিয়ে আসা রজব আলী দেশ রূপান্তরকে জানান, খাবারের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আর আসার ভাড়াও গত বারের তুলনায় প্রতি টাকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি দিতে হয়েছে। এ হিসাবে গরুর দাম একটু বেশি চাইতে হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে ক্রেতা কম, বাজারের হাবভাব বুঝছি না এখনো।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় প্রতি হাটে বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ। এতে দায়িত্বরত ব্যাংক কর্মকর্তারা ক্রেতা ও বিক্রেতাদেও টাকা জাল কি না পরীক্ষা করে দিচ্ছেন। আবার কেউ চাইলে টাকা গুনে নিতেও পারছেন।