রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার পণ্য ও সেবা রপ্তানির মাধ্যমে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণের অর্থ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, যা গত অর্থবছর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কম। এটি এমন সময় করা হয়েছে, যখন জ¦ালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানার পুরো সক্ষমতায় পণ্য উৎপাদন করতে পারছে না। ঠিক এই সময় সরকার ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা রেখে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এদিকে, বৈরী বৈশি^ক পরিস্থিতির কারণে গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি অর্থবছরে বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা সামান্য কমিয়েছে সরকার।

গতকাল রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান। গত অর্থবছরে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমত্রার বিপরীতে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে।

তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কারণে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে আমরা আশাবাদী। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের নতুন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রায় রয়েছে পণ্যখাতে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ৫২০ কোটি ডলার) ও সেবা খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন (৮২০ কোটি) ডলার।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করা। কিন্তু বছর শেষে মোট রপ্তানি হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। গত বছরে অর্জিত এই রপ্তানি আয়ের ওপর চলতি বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বা মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে এখন সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান একাধিক যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সরকার বর্তমান রপ্তানিমুখী ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল বিদেশি ক্রেতারাও পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগির এফটিএ চূড়ান্ত হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত