মাদারীপুরে পুকুরে চামড়ার বর্জ্য ফেলে মাছ নষ্ট করার অভিযোগ

মাদারীপুরেএক চামড়া ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চামড়ার বর্জ্য পুকুরে ফেলে ১০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে । শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলার রাজৈর উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সর্বস্ব হারিয়ে এক দিশেহারা ওই মৎস্য চাষী।

এদিকে বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নূর ইসলাম শেখ উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। ক্ষতিগ্রস্ত ও এলাকাবাসীরা জানান, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় সরকারি লিজের পুকুরে ২ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন চাষী নূর ইসলাম শেখ। গত বৃহস্পতিবার থেকে ক্রয়কৃত কোরবানির পশুর চামড়া এই পুকুরের পাশের একটি দোকানঘরে সংরক্ষণ করেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী হারুন ফকির। পুকুরে ফেলা হয় চামড়া থেকে ছাটাই করা লবনাক্ত বর্জ্য। এতে পানি দূষিত হয়ে শনিবার সকালে ভেসে উঠতে শুরু করে রুই, কাতল, তেলাপিয়া, শিং সহ নানান প্রজাতির মাছ। ধীরে ধীরে মৃত্যু হয় মাছগুলোর।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন মৎস্য চাষী নূর ইসলাম শেখ। পরে মৎস্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে তারা জানান, মাছ বাঁচানো অসম্ভব। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষী। ক্ষতিপূরণসহ চামড়া ব্যবসায়ীর বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে পুকুর থেকে বর্জ্যগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন অভিযুক্ত চামড়া ব্যবসায়ী হারুন। তবে তিনি নিজের দোষ শিকার করেন।

এদিকে চামড়ার বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। জনবসতি এলাকার মধ্যে খোলামেলা ভাবে চামড়া সংরক্ষণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষী নূর ইসলাম শেখ অভিযোগ করে বলেন, শত শত বস্তা লবন, রক্ত ও চামড়া থেকে ছাড়ানো ময়লা পুকুরে ফেলছে। এতে আমার সব মাছ মরে গেছে। চিকিৎসক আনছিলাম কিন্তু সে বলছে মাছ আর বাচানো যাবে না। ২ বছর ধরে চাষ করা মাছগুলো সব শেষ। এতে আমার ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হইছে। আমি ক্ষতিপূরণসহ বিচার দাবি করি।

অভিযুক্ত চামড়া ব্যবসায়ী হারুন ফকির দায় শিকার করে বলেন, নিষেধ করার পরও কৃষাণরা বর্জ্যগুলো ফেলাইছে। এখন উঠাইয়া নদীতে ফেলানো হবে। রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।