ঈদের ছুটিতে চায়ের রাজ্যে পর্যটকের ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন বিকেল থেকেই স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চায়ের রাজ্য।

ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) থেকে রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানে ৩ হাজারের বেশি পর্যটক টিকেট কেটে প্রবেশ করেন, যা থেকে সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

ঈদের ছুটির কয়েকদিন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন, তৃতীয় তিন ও আজ রবিবার চতুর্থ দিন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও শ্রীমঙ্গলের বদ্ধভূমি একাত্তর পর্যটনকেন্দ্রতে পর্যটকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে পর্যটকরা ভিড় করেন চা বাগানের সবুজ অরণ্যে। লাউয়াছড়া বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পথ আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝে সময় কাটাতে পেরে উচ্ছ্বাসিত দর্শনার্থীরা।

ছবি: প্রতিনিধি

বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সুমন আহমেদ, সিলেটের মারুফ রহমান, চট্টগ্রামের রাজু মিয়া বলেন, ‘ঈদে সিলেটেই ঘুরতে আসা হয়। চা বাগানে ঘুরেছি। লাউয়াছড়ায় আগেও আসা হয়েছে, এখানে বার বার আসতে মন চায়।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষে থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকেট কালেক্টর অজানা আহমেদ কামরান বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভিড় জমেছে। ঈদের তিনদিনেই লাউয়াছড়ায় ৩ হাজারের বেশি পর্যটক প্রবেশ করেছেন। এতে সরকারেরর রাজস্ব আয় হয়েছে সাড়ে তিন লাখেরও অধিক টাকা। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের উপপরিদর্শক আশ্রাফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্বে আছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।