পাহাড়ি সীামান্ত থানা নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অডিও রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় আজ রবিবার (৩১ মে) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) রাতের দিকে ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
অডিওতে আরও বলা হয়, পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে–ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে—তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাশেম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য তিনি কোথাও দেননি। কীভাবে অডিওটি এসেছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি দাবি করেন, আধুনিক প্রযুক্তি (এআই বা ডিপফেক) ব্যবহার করে কেউ এটি তৈরি করেছে। অবৈধ কোনো সুবিধা না দেওয়ায় একটি কুচক্রী মহল তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্টো অভিযোগ করেন।
এদিকে অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ওসি আবুল হাশেমকে কলমাকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার তিন থেকে চারটি ইউনিয়ন একেবারে সীমান্ত এলাকায়। যে কারণে মাদকসহ সকল চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এ উপজেলা। কোন ভাবেই থামছে না। রাজনৈতিকসহ সকল ধরনের ব্যক্তিবর্গরা এসব চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় মাঝে মধ্যে চোরাচালানের জিনিসপত্র বা বহনকারী ধরা পড়লেও মূল ব্যবসায়ীরা সব সময় থাকে অধরা। পতিত সরকারের সময় থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত এসব মাদক ও চোরাকারবারি মূল হোতারা বড় বড় পদ পদবিতে থাকায় তাদের নাম পর্যন্ত কেউ মুখে নিতে পারে না।