মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফুলদী নদী থেকে নিখোঁজের চার দিন পর অর্ধগলিত, গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তরুণী হালিমা আক্তার হত্যাকান্ডের রহস্য ২৪ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। এ ঘটনার সাথে জড়িত ৪জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওই তরুণীকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
রবিবার(৩১মে)সন্ধ্যা ৭টা জেলার নতুনগাঁও এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান বিপিএম এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবাব বন্দি দিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু কালাম (৪৮), বড় ভাটেরচর এলাকার মো. জামাল হোসেন (৪৪), মো. রাসেল মিয়া (৪৪) এবং মো. আলামিন প্রধান (৫০)।
জানা যায়, গত ২৯ মে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে পুলিশ হাত পা বাধাঁ ও গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিক ভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া থানার জামলদী (হোসেন্দী) গ্রামের মো. মহসিন বেপারীর কন্যা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওই তরুণীর বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা আক্তারের কাছে আসামি আবু কালামের আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা এবং আসামি রাসেলের ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং আসামি জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সম্মানহানি হওয়ার আশঙ্কা থেকে আসামিরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যাকাণ্ডের আনুমানিক ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আসামিরা হালিমা আক্তারকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমা আক্তারকে ডেকে আনা হয়। এরপর একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে গজারিয়ার ‘বড় ভাটেরচর’ চকের ভেতরের একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামিরা পর্যায়ক্রমে তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে পৈশাচিকতার চরম রূপ হিসেবে হালিমার পরনে থাকা প্যান্ট/টাইটস দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ও আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা মৃতদেহের হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান বিপিএম আরও জানান,মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।