ফক্স নিউজকে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত হয়নি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে যাওয়া যেমন উচিত হয়নি, তেমনি ইরানের সঙ্গেও সামরিকভাবে জড়ানো উচিত ছিল না। তবে তিনি দাবি করেন, ৯ মাস আগে মার্কিন বাহিনী পদক্ষেপ না নিলে ইরান এতদিনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক নীতি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করেন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরাকের দিকে তাকান, আমাদের কত বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা বোকামি করেছি! আমাদের আসলে সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি। যদিও ইরানের সেই (পারমাণবিক) সক্ষমতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘৯ মাস আগে যদি বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর আঘাত না হানতাম, তবে তাদের হাতে এখন পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। হয়তো আজ ইসরায়েল থাকত না, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যেরও কোনো অস্তিত্ব থাকত না; তারপর সেখান থেকে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকত?’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ইরানের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করেনি। আমরা তাদের সামরিক বাহিনীকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছি, কারণ আমরা মনে করি তারা তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি। তবে তাদের অন্য অংশগুলো মধ্যপন্থি নয়, সেগুলোই আমরা লক্ষ্যবস্তু করেছি। তিনি দাবি করেন, অতীতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ধ্বংস করার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।’ তার কথায়, ‘যুদ্ধের সময় সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফলে এমন একটি দেশ তৈরি হয়, যা ৪০ বছরেও পুনর্গঠন করতে পারে না।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তার এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক চলছে। তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান’ : এদিকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না- এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের কাছে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর খবর সামনে আসার পরই ট্রাম্প এমন দাবি করলেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই চুক্তির ক্ষেত্রে দুটি অন্যতম অগ্রাধিকারের কথা বলে আসছেন- পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। শনিবার রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র যে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাটির প্রয়োজন ছিল, তা হলো- সেখানে কোনো পরমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে না। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। বিষয়টি খুব আকর্ষণীয় ছিল।’

তবে তেহরান এর আগে ট্রাম্পের এমন সব দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া, নিজেদের মূল অগ্রাধিকারগুলোর ক্ষেত্রেও দুপক্ষের অবস্থান এখনো বেশ দূরে বলেই মনে হচ্ছে।

চুক্তি করা নিয়ে কয়েক সপ্তাহের নানামুখী প্রচেষ্টা, তীব্র বাদানুবাদ এবং মাঝে মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন প্রশাসন নতুন শর্তযুক্ত যে প্রস্তাব তেহরানে পাঠিয়েছে সেটি চুক্তির প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস শনিবার পৃথক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প ইরানের বিবেচনার জন্য কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করে নতুন রূপরেখা পাঠিয়েছেন। তবে সেই শর্তগুলো আসলে কী, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।